নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপহরণের কিনারা করল সিঙ্গুর থানার পুলিস। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত বিকাশ মোসেলকে। অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে ধৃতদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জানা গিয়েছে, সিঙ্গুরের বাসিন্দা বিকাশ মোশেল গত মঙ্গলবার সিঙ্গুর থেকে শেওড়াফুলি গিয়েছিলেন। তারপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরের দিন অর্থাৎ বুধবার এ নিয়ে সিঙ্গুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিকাশের স্ত্রী চৈতালি মোশেল। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, মুক্তিপণ চেয়ে তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছে। তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। বিকাশ মোশেলকে হাওড়ার বাঁকড়ায় রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, ১৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে স্বামীকে ছাড়া হবে। অভিযোগ পেয়ে সিঙ্গুর থানার ওসি সুদীপ্ত সাধুখাঁ একটি এসওজি তৈরি করেন। ফোন নম্বর সহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। এরপর হাওড়ার বাঁকড়ায় যায় সিঙ্গুর থানার টিম। সেখানে একটি গ্যাসের গোডাউনে হানা দিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে প্রশান্ত বণিক থাকে জগাছা থানা এলাকায়। আরেক অভিযুক্ত রনিত সাহার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে। বাকি তিনজন হল কৌশিক শাহী, শুভজিৎ চৌধুরী এবং নিতাই দাস। তারা তিনজনেই ডোমজুড়ের বাসিন্দা। ঘটনাস্থল থেকে চারটি মোটরবাইক, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং কিছু স্ট্যাম্প পেপার উদ্ধার হয়। অপহৃত বিকাশকেও ওই গুদাম থেকে উদ্ধার করে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, বিকাশ মোশেল অভিযুক্ত পাঁচজনকে ঋণ পাইয়ে দেবেন বলে মোটা টাকা নিয়েছিলেন। তারপর সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। সেকারণেই তারা বিকাশকে অপহরণ করেছে। বিকাশ সহ বাকি পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহরণ কাণ্ডের কিনারা হওয়ায় হাওড়া পুলিসের এক কর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গুর থানা একাধিক অপহরণ কেসের দ্রুত সমাধান করেছে। এটি তার মধ্যে একটি। এই কেসে কিছু আইনি বিষয় রয়েছে, সেব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ করব।



