সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সোমবার সূতির নিমতিতায় চলন্ত ট্রেনের সামনে রিল ভিডিও বানাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম ইয়াসির আহমেদ(১৮)। তাঁর বাড়ি সূতির দেবীপুর গ্রামে। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিন সকালে ওই যুবক নিমতিতা স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে দাঁড়িয়ে ভিডিও শ্যুট করছিলেন বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। ট্রেনটি খুব কাছাকাছি চলে এলেও লাইন থেকে না সরায় যুবককে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনেই তিনি আটকে যান। পরে রেল পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ঘণ্টাখানেক রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সুজনিপাড়া রেল স্টেশনের এসএম গৌতম দাস বলেন, ঘটনাটি নিমতিতা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে। ট্রেনটি সুজনিপাড়া রেল স্টেশনে থামলে যুবককে উদ্ধার করা হয়। আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই যুবক নিমতিতা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে ভিডিও শ্যুট করছিলেন। সেইসময় ওই লাইনে মালদহ-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি দ্রুতগতিতে চলে আসে। ওই যুবক ট্রেনের সামনে থেকে না সরায় ধাক্কা খান। তারপর ইঞ্জিনের সামনে আটকে যান। তাঁর পা দু’টি রেললাইনে ঝুলছিল। সেই অবস্থায় ট্রেনটি নিমতিতা থেকে সুজনিপাড়া রেল স্টেশনের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে চলে। সুজনিপাড়ায় ওই যুবককে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই ওই যুবক দিল্লিতে একটি কোম্পানিতে কাজ পান। কিন্তু, কাজে মন না বসায় সম্প্রতি সেখান থেকে চলে আসেন। বাড়িতে থেকে তিনি কাজের সন্ধান করছিলেন। মৃতের কাকা আসরাফুল হক বলেন, গ্রামবাসীদের কাছে ভাইপোর মৃত্যুর খবর পাই। লোকমুখে শুনছি, ও নাকি রিল ভিডিও শ্যুট করছিল। আসলে কী ঘটেছে, আমরা তা জানি না। প্রসঙ্গত, গতবছর সূতির আহিরন রেলব্রিজে ভিডিও শ্যুট করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় তিন কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পর রেল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়। এক বছরের মাথায় ফের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নামে।