Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরের লাইনে হৃদরোগে মৃত্যু যুবকের, চাঞ্চল্য মধ্যমগ্রামে

এসআইআরের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক তরতাজা যুবকের। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত ২ বিডিও অফিসে।

এসআইআরের লাইনে হৃদরোগে মৃত্যু যুবকের, চাঞ্চল্য মধ্যমগ্রামে
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআরের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক তরতাজা যুবকের। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত ২ বিডিও অফিসে। মৃতের নাম রমজান আলি (৩৮)। বাড়ি মধ্যমগ্রামের রোহণ্ডা-চণ্ডীগড় পঞ্চায়েতের মাঠপাড়ায়। বিকেলে মৃতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান স্থানীয় বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের রোহণ্ডা-চণ্ডীগড় মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা রমজান। আদতে তিনি ও তাঁর পরিবার বিহারের বাসিন্দা ছিলেন। তবে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মধ্যমগ্রামেই থাকেন। রয়েছে স্থানীয় ভোটার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি। রমজান পেশায় গাড়ি চালক। পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে বৃহস্পতিবার রমজানকে খড়িবাড়িতে বারাসত ২ বিডিও অফিসে শুনানিতে ডাকা হয়। তা নিয়ে আজ সকালেও সকালে মায়ের কাছে কেঁদেছিলেন রমজান। পরে নিয়ম মেনে মায়ের সঙ্গে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে বিডিওর গাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় সানবেড়িয়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানেই চিকিৎসক জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রমজানের। এনিয়ে বারাসত ২ বিডিও শেখর সাঁই বলেন, লাইনে দাঁড়িয়েই যুবক অসুস্থ হন। তাঁকে আমার গাড়িতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। মৃত রমজানের মা সালমা বেগম বললেন, শুনানি নিয়ে কয়েকদিন ধরে চিন্তায় ছিল ছেলে। বলত আমাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে। বৃহস্পতিবার সকালে হিয়ারিংয়ে যাওয়ার আগে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম, যা হবে দেখা যাবে। তারপর আমি সঙ্গে গিয়েছিলাম। এর দায় নির্বাচন কমিশনের। 

Advertisement


এদিন বিকেলেই মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ, বারাসত ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনিরুল ইসলাম সহ অনান্যরা। এদিন রথীনবাবু বলেন, আসলে নির্বাচন কমিশন হল বিজেপির টিম। তাই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। আর হয়রানির শেষ নেই। আর কত মানুষকে নিজেদের নাগরিক প্রমাণ করতে প্রাণ দিতে হবে! এর শেষ কোথায় আমাদের জানা নেই। মৃত যুবকের পরিবারের মা, স্ত্রী দুই সন্তান আছে। এদের ভবিষ্যৎ কি হবে আমরা জানি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ