নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চায়ের দোকানে দিনে দিনে ভাঁড়ের জায়গা নিয়েছে কাগজের কাপ। কিন্তু বহু বাঙালি এখনও ভাঁড়ে চা খেতেই পছন্দ করে। চায়ের ঠেকে ধোঁয়া ওঠা ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা জমানো বাঙালির অন্যতম পছন্দ। কিন্তু সমস্যা এখানেই! কলকাতা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় চায়ের ভাঁড়ের অভাব। সৌজন্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল! এই পরিস্থিতিতে অনেকে চায়ের দোকান বন্ধ রেখেছেন। অনেকে আবার ভাঁড়ের বদলে কাগজের কাপেই চা দিচ্ছেন। বাঙালি একটু মুখ বেঁকিয়েই সেই চায়ে চুমুক দিচ্ছে। চা দোকানিরা বলছেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে ভাঁড়ের সমস্যা চলছে। আমরা চড়া দাম দিয়ে ব্ল্যাকে কিনছি।’ একই পরিস্থিতি ভাঁড় প্রস্তুতকারকদের। তাঁরাও বলছেন, ‘খুবই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’
চাঁদনি চক এলাকার চা বিক্রেতা বাল্লু বলছিলেন, ‘আর মাত্র কয়েকটা চায়ের ভাঁড় পড়ে রয়েছে। ওগুলো দিয়েই চালাচ্ছি। শুধু ১৫ টাকার চা দিচ্ছি সেখানে। বউবাজার থেকে আমাদের চায়ের ভাঁড় দিয়ে যেত। ওদের কাছেও স্টক নেই।’ ধর্মতলার এক চা বিক্রেতার কথায়, ‘বাঙালি তো ভাঁড়েই চা খেতে পছন্দ করে। আমরা দিতে পারছি না। যে দিয়ে যায়, তার কাছেও কিছুই নেই। কী করব বলুন তো?’ সমস্যা ঠিক কোথায়? ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বলছিলেন, ‘আমরা তো খুবই বিপদে পড়েছি। কারণ মাটি আনতে দিচ্ছে না। এতদিন তো ডায়মন্ডহারবার, কুলতলি, হাওড়া ইত্যাদি এলাকা থেকে মাটি আসত। চায়ের ভাঁড় তৈরি হত। আগে সেখানে সিন্ডিকেট করে মাটি তোলা হত। এখন সব সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যদিও নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। একটা কোনো পথ শীঘ্রই বেরবে।’ হাওড়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক উমেশ রাই সমাজমাধ্যমে বলেছেন, ‘মাটি আসছে না বলে সমস্যা হচ্ছে। খবর নিয়ে দেখলাম, এতদিন অবৈধ উপায়ে মাটি আসত। জমির নীচ থেকে কিছু নিতে গেলে অনুমতি লাগে। এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ করছে। দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’ শুধুই যে চায়ের ভাঁড় এমনটা নয়, পুজোর সময় মাটির প্রদীপসহ নানা সামগ্রী প্রস্তুত করতেও মাটি প্রয়োজন হয়। ফলত, কলকাতা শহরের চা বিক্রেতারা বলছেন, আর সপ্তাহখানেকের মধ্যে চায়ের দোকানে আর ভাঁড় থাকবে না। চা বিক্রেতাদের অধিকাংশ বলছেন, আগে ১০০টি ভাঁড়ের দাম ছিল ১২০-১২৫ টাকা। এখন সেটা ৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, টাকা দিয়েও চায়ের ভাঁড় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, বাঙালি কি তবে ভাঁড়ে চা খাবে না? চা বিক্রেতা থেকে ভাঁড় প্রস্তুতকারক, সকলেই আশায় বুক বেঁধে আছেন, কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো সমস্যার সমাধান হবে।