Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসায় গাফিলতিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ রামপুরহাটে

রামপুরহাটে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ৩৩ বছরের যুবক দেবনাথ চৌহানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

চিকিৎসায় গাফিলতিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ রামপুরহাটে
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকের চরম গাফিলতিতে এক যুবকের মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল রামপুরহাটে। ঘটনার জেরে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে নার্সিংহোমের মালিক, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বাস্থ্যদপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

Advertisement

মৃত যুবকের নাম দেবনাথ চৌহান (৩৩)। তিনি মুরারই থানার ব্রাহ্মণডাঙা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন দেবনাথবাবু। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে রামপুরহাটে চিকিৎসক আনন্দ মণ্ডলের চেম্বারে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, প্রাথমিক পরীক্ষার পর ওই চিকিৎসক রোগীকে মেডিকেল কলেজের সামনে একটি নির্দিষ্ট নার্সিংহোমে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
মৃতের বাবা গণেশ চৌহানের দাবি, চিকিৎসকের কথা মতো ছেলেকে ওই নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত এক নার্স তাঁকে একটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেবনাথের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপরই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। 
পরে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক আনন্দ মণ্ডলের গাফিলতির কারণেই তাঁর ছেলে মারা গিয়েছে, এই মর্মে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ করেন গণেশবাবু। 
রামপুরহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে এবং বিষয়টি রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হয়েছে। সিএমওএইচ শোভন দে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারটি থানায় অভিযোগ করেছে। থানা থেকে বিষয়টি আমার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যভবনে অফিসের কাজে রয়েছি। ফিরে গিয়ে দেখব।  
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে নার্সিংহোমের কর্ণধার আলিম খানকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক আনন্দ মণ্ডল। গাফিলতির দাবি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ওই যুবক নিয়মিত মদ্যপানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ‘টক্সিক লিভার ডিজিজ’ এবং লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। তাঁর পেটে জল জমে গিয়েছিল, জন্ডিস হয়েছিল এবং গত এক মাস ধরে মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ছিল। অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় তাঁকে আনা হয়েছিল। নার্সিংহোমে ভর্তির পর জন্ডিসের ওষুধ এবং কেবল স্কিন টেস্ট করা হয়েছিল। কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। চিকিৎসার মাঝেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ