সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: জেল খেটেও শোধরায়নি। কোমরে পিস্তল গুঁজে এলাকায় দাপাদাপি করে বেড়াত বছর বত্রিশের যুবক। শুধু তাই নয়, এলাকার বাসিন্দাদের একাংশকে ভয়ও দেখাত। কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদহ থানার পুলিস অভিযুক্তকে পুরাতন মালদহের দিলালপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।
আগ্নেয়াস্ত্রর পাশাপাশি ধৃতের থেকে কাছ থেকে দুটি কার্তুজও উদ্ধার হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত শ্যামল শীলের বাড়ি সাহাপুরের স্কুলপাড়ায়। পুলিসের অনুমান, এলাকায় কোনও অপরাধমূলক কাজের ছক কষেছিল। সেজন্য নিজের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে দেয়। পুলিস অবশ্য তার আগে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধরে ফেলে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মালদহ থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিস। পরপর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অবাক এলাকাবাসীও। আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে পেল ওই যুবক, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। মালদহ থানার পুলিস জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্ত কোনও চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অপরাধ করার জন্যই সে বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি এনেছে। পুলিস বলছে, একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল ধৃত। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে পুরাতন মালদহের বাইপাসে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া ইংলিশবাজারের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। সেসময় ধৃতের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। ওই মাসেই সাহাপুরে ছাতিয়ান মোড়ে প্রকাশ্যে এক যুবকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকানোর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই মূল অভিযুক্ত ফেরার ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্ত করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ গুলি উদ্ধার হয়।
পুলিস জানিয়েছে, গত ৯ মাসে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে বেশ কয়েকজন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অভিযান চালিয়ে পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে। পুলিসের টহলদারিও চলছে। অপরাধমূলক কাজকর্ম রুখতে সতর্ক মালদহ থানা। ধৃত যুবক।-নিজস্ব চিত্র