নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রথমে বচসা তারপর হাতাহাতি। স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতেই দুই পক্ষের হাতাহাতি। বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ব্যক্তিগত হুমকি ভরা, গালমন্দ করা কথাবার্তাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় রানীগঞ্জের রেলস্টেশন চত্বরে এলাকায়। এই ঘটনায় দুই দলের প্রায় ১৪ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনের আঘাত গুরুতর বলে জানা যায়। যানা যায় বিজেপির রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি দলীয় কার্যালয়ে রয়েছে, সেই কার্যালয়ের সামনে বিজেপির ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ২ সদস্যর মধ্যে ফোনে কথাবার্তাকে ঘিরে দুজনের মধ্যেই বচসা হয়, পরে সেই বচসা থেকেই দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে যায়।
অভিযোগ দুই পক্ষ হকি স্টিক, গাড়ির চেন, পাঞ্জা, লাঠি ও ক্রু ড্রাইভার নিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনা চলার সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শুভম রাউত ও তার সঙ্গী সাথীরা বচসায় জড়ান বিজেপির বাদশা চ্যাটার্জি ও অন্য সকল সদস্যদের সঙ্গে। অভিযোগ, রাজু গড়াই নামের এক ব্যক্তি সঙ্গে ফোনে হুমকি দেওয়ার বিষয়কে নিয়ে বিবাদের সৃষ্টি হয়, এই বিষয়কে নিয়েই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ওই সদস্যরা স্টেশন চত্বরে গিয়ে ওই কার্যালয়ের সামনে তাদের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটিতে জড়ান পরে হাতাহাতি শুরু হয় তাদের মধ্যে।
এই ঘটনার বিষয় জানতে পেরেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানীগঞ্জ থানার পুলিশ। রাত যত গভীর হতে থাকে উত্তেজনার পারদ ততটাই বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশের বিশাল বাহিনী উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে কমবেট ফোর্স, রেপিড একশন ফোর্স পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রাতে রাস্তা অবরোধ করেও চলে বিক্ষোভ যদিও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দ্রুত সরানোর জন্য উদ্যোগ নেন। এরপর পুলিশ দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়, পরে রাতভর এলাকায় টহল দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে পুলিশ। জানা গিয়েছে এই ঘটনায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ ও দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন উভয়েই দাবি করেছেন তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।