নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঙ্গি সন্দেহে বেঙ্গালুরুতে ধৃত আশরাফুল মল্লিকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগ মিলল। বাদুড়িয়ার বাসিন্দা আশরাফুল বেঙ্গালুরুতে কাজে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এরাজ্যের নতুন প্রজন্মকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে মগজ ধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করছিল কি না খতিয়ে দেখছে বেঙ্গালুরু পুলিশ ও এনআইএ। তার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিতে এরাজ্যে আসছে বেঙ্গালুরু পুলিশের টিম।
কয়েকদিন আগে বেঙ্গালুরুতে ধরা পড়ে আশরাফুল মল্লিক। অভিযুক্ত যুবক তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। ওই জঙ্গি সংগঠনের এক সদস্য আফগানিস্তানে বসে তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত। এই সূত্রেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত যুবক উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা। গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক সে। সরকারি চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু চাকরি না পেয়ে হতাশ যুবকটি চলে যায় বেঙ্গালুরু। সেখানে বহুজাতিক সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ নেয়।
আশরাফুলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, আফগানিস্তানে অবস্থানকারী তেহরিক-ই-তালিবানের সদস্য ইমরানের সঙ্গেযোগাযোগ রাখছিল সে। তার নির্দেশমতো ভারতে হামলারও ছক কষছিল বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের জেরায় ধৃত যুবক জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তার অনেক দোস্ত রয়েছে। তারা অনেকেই বেকার। তাদেরকেই টার্গেট করেছিল সে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মগজ ধোলাই শুরু হয়েছিল তাদের। ওই যুবকদের নিয়েই একটি গ্রুপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল আশরাফুলের। বর্তমান সদস্যদের দিয়ে লজিস্টিক সাপোর্টের কাজ করানো হত। পাশাপাশি এরাজ্য থেকে নথি তৈরির চেষ্টা করছিল তেহেরিক-ই-তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবস্থানকারী সদস্যদের জন্য। এমনকি বাদুড়িয়া এলাকার কিছু পড়ুয়াও ছিল তার টার্গেট। তার কাছে বাংলা থেকে ফান্ড পৌঁছাত বলেও জেনেছেন তদন্তকারীরা। তার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবার বেঙ্গালুরু পুলিশই আসছে বাংলায়।