সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্কুটারে করে হেরোইন বিক্রি করতে এসে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গেল এক যুবক। পরে ওই যুবককে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড় এলাকায়। ধৃতের নাম সুশান্ত দাস ওরফে পকেট। তার বাড়ি বনগাঁর সাতভাই কালীতলা দাসপাড়ায়। তার কাছ থেকে ১৮৮টি হেরোইনের পুড়িয়া পেয়েছে পুলিস। সেগুলি স্কুটারের সিটের নীচে লুকনো ছিল। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ ১২ গ্রাম। যার দাম ৫৫ হাজার টাকা।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কৃষ্ণা রায়ের বাড়ির সামনে দীর্ঘক্ষণ ওই স্কুটারটি দাঁড় করানো ছিল। আশপাশে কেউ ছিল না। অনেকক্ষণ পর এক যুবক এসে স্কুটারের সিটের নীচে থেকে কিছু একটা বের করে পকেটে ভরে। তা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক যুবকের। তিনি দৌড়ে এসে ওই যুবককে ধরে ফেললে সে পালানোর চেষ্টা করে। ততক্ষণে আশপাশ থেকে লোকজন চলে আসায় সুশান্ত আর পালাতে পারেনি। স্কুটারের সিটের নীচে কী আছে, দেখাতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা জোর করে চাবি কেড়ে নিয়ে খুলে দেখেন, সেখানে একগাদা হেরোইনের পুড়িয়া রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিস এসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কাউন্সিলার কৃষ্ণা রায় বলেন, প্রতিদিন কয়েকজন যুবক এভাবে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হেরোইন ও ফেনসিডিল বিক্রি করছে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ধৃত সুশান্ত দাস ডেলিভারি বয়ের কাজ করে। এই ঘটনায় হেরোইন কারবারিদের বড় মাথা যুক্ত। মূল কারবারির কাছ থেকে হেরোইন কিনে এনে সেগুলি পুড়িয়া করে বিক্রি করে সুশান্তরা। ফোনে ‘অর্ডার’ নেওয়া হয়। অর্ডার মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় হেরোইন। এক একটি পুড়িয়া ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। বনগাঁ হাসপাতাল চত্বর, শক্তিগড়, সুভাষপল্লি, বক্সিপল্লি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অবাধে হেরোইন ও নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের কারবার চলছে। সেসব নিষিদ্ধ সামগ্রী ভ্রাম্যমাণ দোকানের মাধ্যমে পৌঁছে যায় নেশাখোরদের কাছে। সন্ধ্যা হলেই হাসপাতাল চত্বরে স্কুটার, বাইক নিয়ে অল্পবয়সি যুবকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মূলত ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে তারা। শহরের বিভিন্ন চায়ের ঠেকে বসেও চলে এই কারবার। ধৃত যুবক। (ইনসেটে) উদ্ধার হওয়া মাদক।