


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুন করার হুমকি দিয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়। বউবাজার থানা এলাকায় এমন কাজ করার অভিযোগ ওঠে মহম্মদ সমীর নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তাঁর বাড়ি বিহারের বৈশালিতে। কলকাতায় তিনি একটি সংস্থার হয়ে গাড়ি চালানোর কাজে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই কিশোরীকে পথে‑ঘাটে উত্যক্ত করছিলেন ওই যুবক। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একপ্রকার জোর করে গাড়িতে তুলে নেন তিনি। এরপর তাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তোলা হয়। অভিযোগ, সেখানে তার উপর চলে যৌন নির্যাতন। এরপর রাতে তাকে ফের গাড়িতে করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের মেট্রো স্টেশনের কাছে নামিয়ে দিয়ে চম্পট দেন ওই যুবক। নাবালিকা বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সকলকে জানায়। এরপর তার পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার সকালে বউবাজার এলাকা থেকে ওই যুবককে পাকড়াও করে।
এদিন তাঁকে কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ পকসো আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে ১০ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এদিন সরকার পক্ষ থেকে নাবালিকার গোপন জবানবন্দি ও মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়। বিচারক সেই আরজি মঞ্জুর করেন। চলতি সপ্তাহেই ওই মেডিকেল পরীক্ষা হওয়ার কথা। পাশাপাশি ওই নাবালিকা ব্যাঙ্কশালের একজন বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি পেশ করবে বলে সরকারি কৌঁসুলি সৈকত পান্ডে জানান।
অন্যদিকে, পোস্তায় দশ বছরের এক নাবালকের উপর যৌন হয়রানির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে পাকড়াও করল পোস্তা থানার পুলিশ। বুধবার কলকাতার বিশেষ পকসো আদালত তাঁকে ১০ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পোস্তা থানা এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে তার প্রতিবেশী ওই নাবালককে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইনে মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে। পকসো মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মৌসুমী রায়চৌধুরী এদিন জানান, নাবালকের গোপন জবানবন্দির আরজি এদিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক পাপিয়া দাস।