নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অফিস টাইম। কেতাদুরস্ত পোশাকে মেট্রো ধরে বেরিয়ে পড়ত যুবক। অনেকেই ভাবতেন হয়ত অফিসের কর্মী। কিন্তু সেই যুবকে যে কারও বাড়ির সিঁধ কাটতে যাচ্ছে, দেখলে বোঝা দায়। অবশেষে ওই যুবক চুরির অভিযোগে দক্ষিণেশ্বর থানার হাতে পাকড়াও হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতের নাম শেখ ইকবাল। তার বাড়ি মহেশতলা থানার আকড়া এলাকায়। ধৃতের থেকে চোরাই সোনা নিয়ে দোকানে বিক্রির অভিযোগে পুলিশ ওই এলাকার জরিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণেশ্বর থানার টিএন বিশ্বাস রোডের দুটি আবাসনে পরপর চুরির ঘটনা ঘটে।
২২ জানুয়ারি বিষ্ণুপ্রিয়া আবাসনের বাসিন্দা সুষমা সানা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বসিরহাটের আত্মীয় বাড়ি গিয়েছিলেন। আবাসিকদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা। তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরে দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা ও আলমারির তালা ভাঙা। নগদ টাকা ও কানের দুল, হার সহ নানা গয়না খোয়া গিয়েছে। তার আগের দিন পুলিশ পাশের আর কে দেব রোডের আবাসনে চুরির অভিযোগ পেয়েছিল। সেখানেও এক বৃদ্ধ সকালে ফ্ল্যাট বন্ধ করে বাইরে কাজে বেরিয়েছিলেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা। আলমারি ভেঙে সোনার কানের দুল ও নগদ ২৫০ টাকা চুরি গিয়েছে। দক্ষিণেশ্বর থানার ওসি সিদ্ধার্থ মিশ্রের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্তে নেমে এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তাতে এক যুবককে দুটি আবাসনে ঢুকতে ও বের হতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি আবাসনে সে মেরেকেটে আধঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট ছিল। সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে পুলিশ দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে পৌঁছয়। সেখানকার ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবক টালিগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত টিকিট কেটেছে। এরপর টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সিসিটিভির সূত্র ধরে পুলিশ বুঝতে পারে, অভিযুক্ত যুবক মহেশতলা থানা এলাকায় গিয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযুক্তের ছবি নিয়ে মহেশতলা থানায় যেতেই সেখানকার পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এরপর দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ তাকে পাকড়াও করে।