


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট বা সিএসপি খুলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিএসপির মালিককে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে রিজেন্ট পার্ক থানা। অভিযুক্তের নাম অমিত কর। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতেন বলে অভিযোগ। ওই অ্যাকাউন্টটি ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিএসপি সেন্টার চালাতেন অভিযুক্ত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুর অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা মধুপর্ণা রায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তোলার জন্য ওই সিএসপি সেন্টারে যান। তাঁর কাছ থেকে ব্যাংকের পাশবই সহ অন্যান্য নথি নিয়ে নেয় অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, মহিলার আঙুলের ছাপও নেন সেন্টারের মালিক। অভিযোগকারিণী টাকা চাইলে বলা হয়, এখন পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইন ব্যাংকিংয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। যখন টাকা দেওয়া হবে, আপনাকে ফোন করে জানাব। কয়েকদিন পর ওই মহিলা ফের যোগাযোগ করলে বলা হয়, এখন টাকা তোলা বন্ধ রেখেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ডিসেম্বর মাসে তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা— ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা উঠে গিয়েছে। যা দেখে আকাশ থেকে পড়েন মধুপর্ণাদেবী। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই সিএসপিতে যোগাযোগ করেন। তাঁকে বলা হয়, সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এখানে সিএসপি’র কিছু করার নেই। পরে অভিযোগকারিণী জানতে পারেন, আরও অনেক প্রাপক ওই সিএসপিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মধুপর্ণাদেবী গত ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযোগ করেন রিজেন্ট পার্ক থানায়। জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চায়, অভিযোগকারিণীর অ্যাকাউন্টের টাকা কোথায় গিয়েছে? ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পারে, ওই টাকা তাদেরই এক সিএসপি সেন্টারের মালিকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, সিএসপি সেন্টারের মালিক টাকা ট্রান্সফার করে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়েছেন। ১৫ হাজার টাকার পুরোটাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে পাওয়া। লেনদেনের পদ্ধতি ঘাঁটতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শুধু মধুপর্ণা রায় নয়, আরও অনেকের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে। সিএসপি সেন্টারের মালিকের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার জন্য ব্যাংককে চিঠি দেয় পুলিশ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ সেটি ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। সমস্ত নথি ও তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর শনিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।