Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ১৪ লক্ষের গয়না চুরি, বান্ধবী সহ গ্রেপ্তার যুবক

কলকাতায় ১৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না চুরি হয়েছে। যুবক অনীক ভট্টাচার্য ও বান্ধবী সুস্মিতা গ্রেপ্তার। বিস্তারিত পড়ুন।

সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ১৪ লক্ষের গয়না চুরি, বান্ধবী সহ গ্রেপ্তার যুবক
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চুরির সময় অদ্ভুতভাবে বহুতলের সিসি ক্যামেরা বন্ধ! দুষ্কৃতী ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেও চাবি দিয়ে আলমারির লকার খুলে সোনার গয়না চুরি করেছে। চুরি যাওয়া গয়নার ওজন ৯০ গ্রাম। এই চুরির তদন্তে নেমে প্রথম থেকেই লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়, তবে কি বহুতলের কেউ জড়িত?

Advertisement

লালবাজারের আশঙ্কা নেহাত অমূলক ছিল না। সরশুনা থানা এলাকার দক্ষিণ বেহালা রোডের বহুতলে গত ৮ মে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ১৪ লক্ষ টাকা দামের সোনার গয়না চুরির অভিযোগে বহুতলের এক বাসিন্দা ও তার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করেছেন অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দারা। ধৃতরা হল অনীক ভট্টাচার্য এবং সুস্মিতা হালদার। সুস্মিতার এক সন্তান রয়েছে। তবে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকেন না।
কীভাবে এই চুরির কিনারা করল লালবাজার? আলিপুর আদালতের এক সূত্র জানিয়েছে, চুরির তদন্তে নেমে সরশুনা থানা জিজ্ঞাসাবাদ করে অনীক ভট্টাচার্যকে। কারণ, এই অনীকই ১০০ ডায়ালে ফোন করে পুলিশকে চুরির খবর দিয়েছিল। তারপর তার মোবাইল আচমকাই সুইচড অফ হয়ে যায়। ফলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে তার উপর। পাশাপাশি তদন্তে নেমে লালবাজার বহুতলের বাইরের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে পায়। দেখা যায়, হেলমেটে মুখ ঢেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপরই লালবাজার তার উপর নজরদারি চালাতে শুরু করে।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা লক্ষ্য করেন, অনীক বিবাহিত হলেও ব্যাংকে কর্মরতা স্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনা নেই। স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে স্বামী পরিত্যক্তা বান্ধবীকে নিয়ে দার্জিলিং-গ্যাংটক-লাটাগুড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে অনীক! লালবাজারের অনুমান, বান্ধবীর সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্যই তারা চুরি করেছে। ওই গয়না বিক্রি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। ওই টাকায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে প্রায় দু’মাস ধরে দার্জিলিং-গ্যাংটক-লাটাগুড়িতে হোটেল বদলে থেকেছে।
এমনকি, গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে অনীক মোবাইলের নম্বর বদল করেছে বারংবার। গোয়েন্দাদের দাবি, অনীক-সুস্মিতা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শিলিগুড়িতে চোরাই সোনার গয়না বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিল। এরপর একবার কলকাতায় ফিরলেও ফের ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে বেড়াতে যায় তারা। দ্বিতীয় দফায় তারা শিলিগুড়িতে গিয়ে ফের সোনার গয়না বিক্রি করে বলে লালবাজার জানতে পেরেছে।
এমনকি, লাটাগুড়ি থেকে ফিরে আসার পর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিতে ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র বাড়িভাড়া করে থাকছিল দু’জনে। তদন্তে তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর লালবাজারের গোয়েন্দারা গত ২৪ জুন অনীক ভট্টাচার্য এবং তার বান্ধবী সুস্মিতা হালদারকে গ্রেপ্তার করেন। আপাতত তারা ৫ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা চুরি যাওয়া সোনার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করতে পেরেছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ