নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ইছামতীর পাড়ে চলল বুলডোজার! কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে বুধবার সকাল থেকে টাকিতে ইছামতী নদীর পাড়ে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা টাকি সিটি গেস্ট হাউস ও দিশা গেস্ট হাউস ভাঙার কাজ শুরু করল প্রশাসন। টাকি পুরসভা এলাকায় সেচদপ্তরের জমিতে তৈরি এই দু’টি নির্মাণ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে নদীর চর ও সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল বিলাসবহুল দু’টি গেস্ট হাউস। স্থানীয়দের দাবি, হোটেল দু’টির মালিক বসিরহাটেরই দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। দিশা গেস্ট হাউসের মালিক উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা ধৃত তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল। অন্যটির মালিক ‘প্রভাবশালী’ বারীন বিশ্বাস। বুধবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন সেচদপ্তরের আধিকারিক এবং টাকি পুরসভার কর্মীরা। অপ্রীতিকর যে কোনো পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত গত বছর। শীতের সময় টাকি বেড়াতে এসে রাজবাড়িঘাট সংলগ্ন ইছামতীর চর দখল করে গড়ে ওঠা দু’টি গেস্ট হাউস নজরে আসে কলকাতা হাইকোর্টের দুই আইনজীবী চিন্ময় ঢালি ও তন্ময় বসুর। তাঁরাই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। ক’দিন আগে মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে, নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না। শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজি ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পরিবেশ ও পুর আইনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইছামতীর পাড়ে দু’টি গেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। টাকি পুরসভার পালটা দাবি ছিল, আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বুধবার হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর স্থানীয়দের বক্তব্য, বহু বছর ধরে সরকারি জমি দখল করে এই নির্মাণগুলি দাঁড়িয়েছিল। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি এতদিন। বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি নেতা ডাঃ শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘টাকি পুরসভা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে। তৃণমূলের প্রভাবেই এতদিন হোটেলগুলি টিকে ছিল।’ যদিও বিজেপির অভিযোগের জবাবে তৃণমূল কিংবা টাকি পুরসভার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নিজস্ব চিত্র