Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে সোনা গ্যাংয়ের টার্গেট তরুণীরা, ডেরায় আটকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন

বর্ধমানের রসিকপুরের ত্রাস মাহিরুদ্দিন দফাদার ওরফে সোনা। শহরের প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। সেই কারণেই হয়তো সে কাউকে পরোয়া করত না।

বর্ধমানে সোনা গ্যাংয়ের টার্গেট তরুণীরা, ডেরায় আটকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের রসিকপুরের ত্রাস মাহিরুদ্দিন দফাদার ওরফে সোনা। শহরের প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। সেই কারণেই হয়তো সে কাউকে পরোয়া করত না। এলাকায় একটি গ্যাং তৈরি করে সে। সোনা গ্যাংয়ের টার্গেট থাকত মহিলারা। এমনটাই বলছেন এলাকার বাসিন্দারা। এক মহিলাকে একটি অফিস ঘরে আটকে রেখে সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে সে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। পুলিশ তাকে পাকড়াও করেছে। তার দুই সঙ্গী আলি দফাদার, আজিজুল দফাদারও গ্রেপ্তার হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সোনাদের ভয়ে এলাকায় কারও মুখ খোলার সাহস ছিল না। তার অত্যাচার বেড়েই চলছিল। ওই মহিলার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। তিনি বাধ্য হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে তাঁর আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকত না। ওই মহিলা বলেন, সোনা এবং তার লোকজন তাদের ডেরায় ডেকে পাঠাত। না গেলে অত্যাচার করা হতো। কয়েকদিন আগে অফিসে ডেকে ওই তিনজন যৌন অত্যাচার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বর্ধমান শহরের মধ্যে এভাবে মহিলাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। ওই মহিলার উপর দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয়েছে। অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে বাধ্য হন। রসিকপুরে গুণ্ডারাজ চলছে। অন্যায় কাজ করার পরও অনেকেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই দুষ্কৃতীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ওই মহিলার উপর যারা অত্যাচার করেছে, তারা কতদিন জেলে বন্দি থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর এক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় অনেক মহিলা আতঙ্কে ছিলেন। সোনা জেলে যাওয়ায় আপাতত তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, সোনা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। শাসক দলের মিটিং মিছিলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসের পাশেই ওই মহিলাকে আটকে রেখে অত্যাচার করা হয়েছে। সন্দেশখালির মতো ঘটনা সব জায়গাতেই হচ্ছে। শাহজাহানদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারছেন না। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, সোনার গ্যাং এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত। ওই মহিলার উপর অনেকদিন ধরেই অত্যাচার চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে সেটা স্পষ্ট। তৃণমূলের সহ সভাপতি তন্ময় সিংহ বলেন, এধরনের ঘটনা সমর্থন করা যায় না। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। তাদের শাস্তি পেতেই হবে।
ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, আমাকে ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। আত্মহত্যা ছাড়া পথ নেই। ওরা বলছে, ঘরে থাকতে হলে ওদের কথা শুনতে হবে। এটা কেমন বিচার? এটা কেমন দেশ? কাকে আমরা বিশ্বাস করব? বিচার চাই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা শনিবার রাতে বর্ধমান থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ ওই মহিলার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ