নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেসরকারি সংস্থার কাজ ও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করতে হবে। পরিবারের এই দাবি মানতে চাননি ঘুষুড়ির বাসিন্দা এক তরুণী। তাই বাড়িতেই তাঁর পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল পরিবারের বিরুদ্ধে। একদিন-দু’দিন নয়, টানা দশদিন ধরে এভাবেই মেয়েকে আটকে রেখেছিলেন বাবা-মা। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী ওই বাড়িতে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিস। তবে এদিন রাত পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি থানায়।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুষুড়ির বাসিন্দা একুশ বছরের ওই তরুণী হাওড়ার একটি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পাশাপাশি নিউ বারাকপুরে একটি বেসরকারি মার্কেটিং সংস্থায় কাজ করেন তিনি। তরুণীর অভিযোগ, বাবা-মা তাঁকে চাকরি ও পড়াশোনা ছেড়ে বিয়ে করার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলেন। পরিবারের দাবি মানতে না পেরে আগেও ওই তরুণী দু’বার বাড়ি ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠেছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে এলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পায়ে শিকল পরিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। এদিন সকালে তরুণীর ফ্ল্যাটের দরজা খোলা থাকায় তাঁকে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরাই স্থানীয় তৃণমূল নেত্রীকে বিষয়টি জানান। এরপর স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিস এসে তরুণীর বাবা ও মাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তরুণীর বাবা বলেন, ‘মেয়ে যে সংস্থায় কাজ করত, সেই জায়গাটি ভালো নয়। তাই ওকে কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। এর আগেও মেয়ে মোবাইল ও টাকা নিয়ে দু’বার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করি। তাই দিনের বেলায় যখন আমরা বাড়িতে থাকি না, তখন ওর পায়ে শিকল বেঁধে রেখে যেতাম। এমনটা করা আমাদের উচিত হয়নি।’ যদিও ওই তরুণী বলেন, ‘বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করতে চাই না। কিন্তু আমি আলাদা থেকে পড়াশোনা ও চাকরি করতে চাই।’ পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে কোনও সাবালিকাকে জোর করে আটকে রাখা যায় না, সেটা পরিবারকে বোঝানো হয়েছে।