Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোবাইল ‘হ্যাকমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতিতে তরুণীকে ধর্ষণ

মোবাইল ‘হ্যাকমুক্ত’ করার  প্রতিশ্রুতিতে তরুণীকে ধর্ষণ
  • ১৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মোবাইল ফোন ‘হ্যাক মুক্ত’ করার জন্য নিজেকে পুলিস পরিচয় দিয়েছিল বাহার আলি। এরপর যুবতীকে মধ্যমগ্রামের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে সে। এরপরেই অভিযুক্ত বাহারকে গ্রেপ্তার করেছিল মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। দু’বছর ধরে মামলা চলার পর বৃহস্পতিবার বাহারকে দোষী সাব্যস্ত করলেন বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা কোর্টের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য হোসেন। আজ, শনিবার দোষীর সাজা ঘোষণা হবে। 

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে ১৪ মে রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ যুবতীকে ফোন করে বাহার। দত্তপুকুর থানার পুলিসের নাম করে সে যুবতীকে বলে, তাঁর ফোন হ্যাক হয়েছে। ছবি চলে যাচ্ছে অন্যদের কাছে। এক্ষুণি ফোনটি হ্যাক মুক্ত করতে মধ্যমগ্রাম থানার সামনে আসতে হবে। যুবতী বাবাকে নিয়ে মধ্যমগ্রাম থানার সামনে যান। এরপর যুবতীকে বলা হয়, থানা থেকে কিছুটা একটি পোল্ট্রি ফার্মের কাছে আসতে। তবে, তাঁকে একাই আসতে হবে। ফোন হ্যাক মুক্ত করতে যুবতী রাতে একাই যান নির্জন জায়গায়। সেখানে যাওয়ার পর বাহার আলি প্রথমে যুবতীর ফোনটি নিয়ে নেয়। তারপর বাহার আলি, তার সঙ্গে যুবতীর কথা ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট মুছে দেয়। এরপরেই তরুণীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে বছর চব্বিশের বাহার। সেইসময় কিছু ভিডিও ছবিও তুলে রাখে সে। 
সেখান থেকে কোনোরকমে বেরিয়ে তরুণী তাঁর বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরে তাঁর মাকে সব কথা বলেন। ঘটনার পরদিন তরুণীর কাছে পাঁচ হাজার টাকা চায় বাহার। ওইসঙ্গে সে হুমকি দেয় যে, টাকা না দিলে তরুণীর অশ্লীল ছবি ভাইরাল করে দেবে। নির্যাতিতা তরুণী অবশ্য পরিবারের লোকজনকে নিয়ে ১৭ মে মধ্যমগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত চালিয়ে বাহারকে গ্রেপ্তার করে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস। দু’বছর মামলা চলার পর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে বারাসত আদালত। 
এই প্রসঙ্গে মামলার সরকারি আইনজীবী সৌভিক বসু ঠাকুর বলেন, ‘এটি এক অভিনব কায়দায় সংঘটিত ধর্ষণ। মামলা চলাকালীন তদন্তে জানা গিয়েছে একাধিক অল্পবয়সি মহিলার সঙ্গে সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এমনকী, তার ফোনে রয়েছে অল্পবয়সি মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও কলের প্রমাণ। মূলত, ওর টার্গেট ছিল স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে এই কাণ্ড ঘটানো। তবে, তার ফোনে উদ্ধার হয়েছে একাধিক পুলিসের ভুয়ো ছবি। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল, ‘আইপিএস’ লেখা বিভিন্ন ব্যাজও ছিল তার ফোনে। মামলার দু’বছরের মধ্যেই বাহারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বারাসত আদালত। আজ শনিবার তার সাজা ঘোষণা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ