নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এ যেন ‘রক্ষকই ভক্ষক’! ফেসবুকে আলাপ। তারপরই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুলিশের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই)। পরিবারের সদস্যরা দেখা করবেন, এই আশ্বাসে তরুণীকে সল্টলেকের গেস্ট হাউসে এনে লাগাতার নির্যাতন! অভিযোগ, ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে আচ্ছন্ন করে সকাল থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত জোর করে আটকে রেখে তাঁকে প্রায় ১০ বার ধর্ষণ করা হয়। এমনকি, পিস্তল দেখিয়ে শাসানোও হয়। কোনোরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তরুণী। অবশেষে অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, তাকে মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে মঙ্গলবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত ওই এএসআইকে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম আজমল হক। বীরভূমের নলহাটি থানার এএসআই। বাড়ি মুর্শিদাবাদের ওরঙ্গাবাদে। নির্যাতিতার বাড়ি মালদহে। তিনি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ডিপ্লোমা কোর্স করছেন। গত জুন মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের আলাপ। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, আজমল তাঁকে বলেছিল, স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। নাবালক সন্তানদের দেখভালের জন্য তাঁকে বিয়ে করতে চান। বিয়ের ব্যাপারে পরিবারের লোকজন কলকাতায় দেখা করতে আসবেন। ১৩ জুন সকালে আজমল সেক্টর ফাইভে গাড়ি নিয়ে তরুণীর কাছে যায়। তাঁকে বলে, সেক্টর ফাইভ মেট্রোর পাশে সিএল ব্লকের গেস্ট হাউসে দিদি ও জামাইবাবু অপেক্ষা করছেন। সরল বিশ্বাসে ওই তরুণী গেস্ট হাউসে যান।
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ গেস্ট হাউসে ঢোকেন তিনি। দিদি-জামাইবাবু অন্যরুমে বিশ্রাম নিচ্ছেন বলে তাঁকে অন্য ঘরে বসিয়ে আজমল কিছুক্ষণের জন্য বেরিয়ে যায়। তরুণী দেখেন, বালিশের নীচে পিস্তল! আজমল ফিরে এসেই দরজা বন্ধ করে দেয়। তরুণী আপত্তি জানালে আজমল বলেন, ভয় নেই, আমি পুলিশ অফিসার! অভিযোগ, এরপরই তরুণীকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় এবং বিস্কুট খেতে দেয় আজমল। তা খাওয়ার পর আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। সেই সুযোগে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। সেই দৃশ্য ভিডিয়ো করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর আচ্ছন্নভাব একটু কমলে তাঁকে ফের ধর্ষণ করা হয়। মুখ খুললে সেই ভিডিয়ো ভাইরালের হুমকি দেয় আজমল। ওইদিন রাতভর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরের দিন সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তরুণী। কিন্তু, আজমল আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে শাসায়। সকালেও দু’বার ধর্ষণ করে সে। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ১৩ জুন সকাল থেকে ১৪ জুন সকাল পর্যন্ত তাঁকে ১০ বার ধর্ষণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন পিস্তলের ভয় দেখিয়ে চিনার পার্কে একটি রেস্তরাঁয় নিয়ে যায় আজমল। সেখানে খাওয়ার পর ফের গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হয়। এরপর কিছুক্ষণের জন্য আজমল বাইরে গেলে তরুণী সেখান থেকে পালিয়ে যান। ১৯ জুন বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।