Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জন্মদিনের পার্টির টোপে ‘অপহরণ’, টালিগঞ্জে গণধর্ষণ তরুণীকে

কসবা কাণ্ডের পর শহরে ফের ‘গণধর্ষণ’। এবার অপহরণ করে বন্ধুর ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বছর কুড়ির এক তরুণীকে পাশবিক যৌন অত্যাচার।

জন্মদিনের পার্টির টোপে ‘অপহরণ’, টালিগঞ্জে গণধর্ষণ তরুণীকে
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা কাণ্ডের পর শহরে ফের ‘গণধর্ষণ’। এবার অপহরণ করে বন্ধুর ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বছর কুড়ির এক তরুণীকে পাশবিক যৌন অত্যাচার। অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রেমিক ও কমন ফ্রেন্ড এক যুবক। নাম যথাক্রমে চন্দন মল্লিক ও দেবাংশু বিশ্বাস ওরফে দীপ। চন্দন হরিদেবপুর এলাকার একটি খ্যাতনামা দুর্গাপুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা। এলাকায় বেশ প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দেবাংশু রাজ্য সরকারি কর্মচারী। ঘটনার পর দু’জনেই বেপাত্তা। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশন) রাহুল দে বলেন, ‘মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। ৭ ডিসেম্বর দেবাংশুর জন্মদিন। কিন্তু আগাম পার্টির টোপ দিয়ে তরুণীকে দেবাংশুর বাড়িতে আসতে বলে চন্দন। বলা হয়, আরও বন্ধুরা সেখানে আসবে। টালিগঞ্জের মালঞ্চ সিনেমা হল থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকে দেবাংশু। বেহালায় তার একটি ফ্ল্যাটের নির্মাণ চলছে। তাই আপাতত রিজেন্ট কলোনির ওই ভাড়া বাড়িতে মাকে নিয়ে থাকছিল দেবাংশু। ঠিক হয়, তরুণীকে দেবাংশুর ভাড়া বাড়িতে বাইকে করে নিয়ে যাবে চন্দন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে তাতে আপত্তি জানান তরুণী। কারণ, বছর দু’য়েক আগে চন্দনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তরুণী। তবে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তা। দু’জনেই সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যান। তাই প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে যেতে চাননি তিনি। কিন্তু, বন্ধুর জন্মদিনের পার্টির স্বার্থে শেষমেশ রাজি হন তরুণী।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাত ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ হরিদেবপুর থানা এলাকার জনতা স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে থেকে তরুণীকে বাইকে তোলে চন্দন। নিয়ে যাওয়া হয় রিজেন্ট কলোনিতে। তখন মধ্যরাত। সেখানে যেতেই হতবাক হয়ে যান তরুণী। কারণ, কোনও পার্টিই ছিল না দেবাংশুর বাড়িতে। এরপর একতলার ঘরে শুক্রবার রাতভর আটকে রাখা হয় তরুণীকে। চলে মারধর। এরপরে তরুণীকে গণধর্ষণ করে চন্দন ও দেবাংশু। শনিবার সকাল হতেই দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দুই অভিযুক্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কোনওক্রমে অকুস্থল থেকে পালাতে সক্ষম হন নির্যাতিতা। সন্ধ্যায় হরিদেবপুর থানায় গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিক ও বন্ধুর নামে অপহরণ, গণধর্ষণ ও আটকে রেখে মারধরের লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। তদন্তে নামে পুলিশ। রাতে নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। সূত্রের খবর, তরুণীর গলা, ঠোঁট, মুখ সহ একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। হাত, পায়েও আঘাত রয়েছে। এরপর রাতেই নির্যাতিতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অকুস্থল থেকে যাবতীয় নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লালবাজারের সায়েন্টিফিক উইং। গোটা ঘরের ফটো ও ভিডিওগ্রাফি করা হয়। 
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দু’জনেরই ফোন বন্ধ। ফলে তা ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, চন্দনের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির পাশাপাশি একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে হরিদেবপুর থানায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের প্রশ্ন, তা সত্ত্বেও কীভাবে শ্রীঘরের বাইরে এই ‘দুষ্কৃতী’?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ