Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চাকরির টোপে বধূকে শ্যামবাজারে অপহরণ, পাচার বাংলাদেশে! ওপারের হাসপাতাল থেকে ভাইকে ফোন অপহৃতার

খাস কলকাতা থেকে পাচার গৃহবধূ। স্বামীর সঙ্গেই তামিলনা‌ড়ুতে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তামিলনাড়ুর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিয়োগ বিভাগের কর্মী পরিচয় দিয়ে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য এক ব্যক্তি শ্যামবাজার মোড়ের কাছে ডেকে পাঠায় গৃহবধূকে। সেখান থেকেই বেপাত্তা।

চাকরির টোপে বধূকে শ্যামবাজারে অপহরণ, পাচার বাংলাদেশে!  ওপারের হাসপাতাল থেকে ভাইকে ফোন অপহৃতার
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: খাস কলকাতা থেকে পাচার গৃহবধূ। স্বামীর সঙ্গেই তামিলনা‌ড়ুতে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তামিলনাড়ুর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিয়োগ বিভাগের কর্মী পরিচয় দিয়ে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য এক ব্যক্তি শ্যামবাজার মোড়ের কাছে ডেকে পাঠায় গৃহবধূকে। সেখান থেকেই বেপাত্তা। 

Advertisement

প্রায় ১ মাসের মাথায় আচমকা বিদেশের নম্বর থেকে ফোন পান বধূর ভাই। ফোনের ওপার থেকে অসহায় গলায় পরিচয় দেন দিদি। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমায় অপহরণ করা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে আমায় বাংলাদেশে পাচার করে দিয়েছে। আমি পালিয়ে এসেছি বাংলাদেশের একটি হাসপাতালে।’ শ্যামপুকুর থানা ও লালবাজারের মানবপাচার দমন শাখায় লিখিত অভিযোগ করেছেন অপহৃতার ভাই। তার ভিত্তিতে অপহরণ ও পাচারের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, অপহরণের নেপথ্যে এক ব্যক্তির যোগ পাওয়া গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে। 
মহিলার নাম মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল (৩০)। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থানা এলাকার মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ওই গ্রামেই তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর নাম অজয় মিস্ত্রি। ৫ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁদের। পারিবারিক অনটনের জন্য তাঁরা স্থির করেন বাইরে কাজ করতে যাবেন। সেই মতো ফেসবুক থেকে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে তামিলনাড়ুর একটি সংস্থায় কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনিই কাজ পাইয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। নথিপত্র যাচাইয়ের নাম করে কলকাতায় দেখা করার কথা বলেন অভিযুক্ত। সেই মতো শ্যামপুকুর থানা এলাকার গালিফ স্ট্রিটে ভাইয়ের কাছে চলে আসেন মধুমিতা। 
বধূর ভাই দীপঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘১ জুলাই শ্যামবাজারে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলেছিল দিদি। জামাইবাবুও জানতেন বিষয়টা। সেদিন দুপুর থেকে আচমকাই দিদিকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছিল না। সুইচড অফ বলছিল। তৎক্ষণাৎ আমি জামাইবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, গ্রামের বাড়িতে ফেরেনি দিদি। আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া হয়। কিন্তু, কোথাও পাওয়া যায়নি। সন্দেশখালি থানায় এনিয়ে একটি মিসিং ডায়েরি করা হয়। ওখানকার পুলিশ জানায় খোঁজ চলছে।’ সেই ঘটনার প্রায় এক মাসের মাথায় ‘+৮৮০’ আইডি থেকে একটি ফোন আসে দীপঙ্করের কাছে। কান্নার স্বরে ভাইকে ফোন করেন মধুমিতা। তিনি বলেন, অপহরণের পর অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই বেআইনিভাবে বলপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বধূকে। গোপালগঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ‘বন্দি’ করে রাখা হয় মধুমিতাকে। সেখান থেকে অন্যত্র পাঠানোর সময় কোনোভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন অপহৃতা। সংশ্লিষ্ট নম্বরটি নিয়ে শ্যামপুকুর থানায় দিদির অপহরণ ও পাচারের অভিযোগ করেন দীপঙ্কর। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। শহর থেকে তরুণীকে অপহরণ ও পাচারের ঘটনায় উস্কে গিয়েছে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। তাহলে কি বাংলায় ফের সক্রিয় আন্তর্জাতিক মহিলা পাচার চক্র? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ