Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ, যুবরা! মালদহ জেলা এখন যেন ‘উড়তা পাঞ্জাব’

‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমাটির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে মালদহ। যেভাবে মাদক পাচারকারীরা পুলিস সহ অন্য বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে, তাতে স্পষ্ট, মালদহের কতটা গভীরে শিকড় পৌঁছে গিয়েছে এই মাদক ব্যবসার।

মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ, যুবরা! মালদহ জেলা এখন যেন ‘উড়তা পাঞ্জাব’
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমাটির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে মালদহ। যেভাবে মাদক পাচারকারীরা পুলিস সহ অন্য বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে, তাতে স্পষ্ট, মালদহের কতটা গভীরে শিকড় পৌঁছে গিয়েছে এই মাদক ব্যবসার। সোমবারও মালদহ টাউন স্টেশনের জিআরপি ৪০৪ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ গ্রেপ্তার করেছে এক যুবককে। বয়স মাত্র ২১ বছর! কলেজে পড়ার বয়সে ওই যুবক ব্রাউন সুগারের প্যাকেট নিয়ে পাড়ি দিচ্ছিল কোচবিহারে। সেখান থেকে সম্ভবত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোথাও পৌঁছে যেত ওই মাদকের প্যাকেটগুলি। যেভাবে মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়ছে যুবক, তরুণ প্রজন্ম এমনকী কিশোররা, তাতে প্রমাদ গুণছে মালদহের নাগরিক মহল। 

Advertisement

মালদহ জিআরপির আইসি প্রশান্ত রাই বলেন, জসিমুদ্দিন শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্রাউন সুগার বহন করার অপরাধে। সে কালিয়াচকের শাহাবাজপুরের বাসিন্দা। বাজেয়াপ্ত মাদকের মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। রেল পুলিসের ধারণা, ছোট ছোট প্যাকেটে সামান্য পরিমাণ ব্রাউন সুগার পুরে সরাসরি মাদকাসক্তদের হাতে পৌঁছে দেওয়া গেলে প্রায় ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কামিয়ে নিতে পারত ওই র‍্যাকেট।
তবে ওই যুবকের গ্রেপ্তার মালদহে কোনও নতুন ঘটনা নয়। শুক্রবার ও শনিবারও মালদহ থেকে চার জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল  জেলা পুলিসের ক্রাইম মনিটরিং গ্রুপ, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ইংলিশবাজার থানার পুলিস এবং রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাস্কফোর্স। বাজেয়াপ্ত হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের ব্রাউন সুগার। তার চেয়েও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া তিন পাচারকারীর বয়সই ২৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
মাদক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিসের সাফল্য ভরসা জোগালেও প্রশ্নও উঠছে একাধিক। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোর এবং যুবকদের অভিভাবক মহলে তৈরি হচ্ছে তীব্র আশঙ্কাও।
মালদহের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা বঙ্গরত্ন শক্তিপদ পাত্র বলেন, পুলিস মাদক পাচার রোধে প্রশংসনীয় কাজ করছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু যারা এই পাচারে যুক্ত হয়ে নিজেদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে, তারা তো আসলে দাবার বোড়ে। সদ্য কিশোর বা তরুণদের উচ্চাকাঙ্খাকে কাজে লাগিয়ে যারা তাদের মাদক পাচারে ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের টিকি ছোঁয়া সম্ভব হচ্ছে না কেন? শুধু কান টানলে কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হবে না। মাথাকেও ধরতে হবে। একই মত ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানেরও। মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন,  মাদক পাচার রুখতে লাগাতার অভিযান চলছে।  ধৃত মাদক পাচারকারী। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ