


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বান্ধবীর পছন্দের রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন যুবক। খাওয়াদাওয়ার পর বিল দেখে আকাশ মাথায় ভেঙে পড়ে যুবকের। বিল মেটাতে না পারায় তাঁকে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। যুবক বুঝতে পারেন, সবটাই ফাঁদ। তরুণীকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। খাওয়াদাওয়ার শেষে যুবককে ১৮ হাজার ৭৪৮ টাকার বিল ধরানো হয়। যার মধ্যে হুক্কার দাম ধরা হয়েছে ১১ হাজার টাকা এবং চিকেনের একটি পদের দাম নেওয়া হয়েছে ১০৯৯ টাকা! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতারণার শিকার হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহরতলির বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরে বছর পঁচিশ-ছাব্বিশের এক যুবক। ডেটিং অ্যাপে আলাপ হওয়ার পর হিন্দিভাষী বান্ধবীর জোরাজুরিতে তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকুরিয়ার সাউথ এন্ড পার্কের ওই রেস্তরাঁয় এসেছিলেন দেখা করতে।
বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় যুবক জানিয়ে দেন তিনি এত বিল মেটাতে পারবেন না। তখন রেস্তরাঁকর্মীরা ওই যুবককে একটি ঘরে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। যুবক তাঁর সঙ্গে থাকা সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিলেও রেহাই মেলেনি। রেস্তরাঁর কর্মীরা তাঁকে হুমকি দিতে শুরু করে। এরপর এক পরিচিত ব্যক্তি মারফত যুবককে আটকে রাখার খবর পৌঁছায় লালবাজারের শীর্ষকর্তার কাছে। অভিযোগ যায় স্থানীয় পুর প্রতিনিধির কাছেও। লালবাজারের নির্দেশে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। টাকাও ফিরেয়ে দেয়। সম্মানহানির ভয়ে যুবক অবশ্য রবীন্দ্র সরোবর থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেটিং অ্যাপে সক্রিয় রয়েছে প্রতারণা চক্র! ঢাকুরিয়ার সাউথ এন্ড পার্কের ওই ‘কুখ্যাত’ রেস্তরাঁকে সামনে রেখে রমরমিয়ে চলছে প্রতারণা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিক সম্মান খোয়ানোর ভয়ে পুলিশে অভিযোগ করছেন না প্রতারিত যুবকরা। যার সুযোগ নিয়ে চলেছে লোক ঠকানোর কারবার।
ডেটিং অ্যাপে আলাপ হওয়ার পর বান্ধবীর সঙ্গে রেস্তরাঁয় সময় কাটাতে গিয়েই এই ফাঁদে পড়ে কার্যত সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকে। বেশ কিছু তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কুখ্যাত এই রেস্তরাঁর। ফলে ডেটিং অ্যাপ থেকে ‘শিকার’ হিসাবে যুবকদের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ পাতিয়ে তাঁদের এই রেস্তরাঁয় নিয়ে আসছে মহিলারা। রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পর্ব মিটতেই নানা অছিলায় অস্বাভাবিক চড়া বিল মেটাতে বাধ্য করা হচ্ছে যুবকদের। বিলের টাকা মেটাতে না পারলে রেস্তরাঁয় আটকে রেখে যুবকদের বাড়িতে খবর দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ডাকার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। লোকলজ্জার হাত থেকে বাঁচতে প্রতারিত যুবকরা সর্বস্ব খুইয়ে বেরিয়ে আসছেন। টাকা মেটাতে না পারলে রেস্তরাঁর লোকজন মোবাইল, সোনার আংটি, হার, ঘড়ি সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, সাউথ এন্ড পার্কের সংগীত সরণিতে অবস্থিত এই রেস্তরাঁয় কয়েক মাস আগেও এক যুবক একই কায়দায় তরুণীর খপ্পরে পড়ে ১৭ হাজার ৬৬৬ টাকা খুইয়েছেন। শহরবাসীকে সতর্ক করতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে কুখ্যাত রেস্তরাঁ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন যুবক। তবে কেউই সম্মানহানির ভয়ে স্থানীয় রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ করছেন না। ফলে বারবার ছাড় পেয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা। এই সেই বিল।