সংবাদদাতা, কালিয়াচক:মাসি শাশুড়ির বাড়িতে অপমান, মারধর করেছিলেন স্ত্রী। বাড়িতে ফিরেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে আত্মহত্যা যুবকের। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার ১৬ মাইলে। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল ওরফে যিশু (২৭)। স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর দুয়েক আগে কালিয়াচক থানা এলাকার জোতপরম গ্রামের দীপা সাহার সঙ্গে বিয়ে হয় বিশ্বজিতের। তিন বছর প্রেমের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছিল। বিশ্বজিত্ বিমা সংস্থায় কাজ করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর স্ত্রী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ পান।
বিশ্বজিতের কাকার ছেলে বাপন মণ্ডলের অভিযোগ,বছরখানেক দু’জনের মধ্যে গন্ডগোল চলছিল। দীপা কাজ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজিতকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। মাস আটেক আগে বাপের বাড়ি চলে যান দীপা। কয়েকবার বিশ্বজিত্ তাঁকে আনতে গেলেও ফেরেননি। বিশ্বজিতের আরেক আত্মীয় পঙ্কজ মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিশ্বজিত্ বিকেলে এক বন্ধুর মারফত জানতে পারেন দীপা ভগবানপুর কেবিএস এলাকায় তাঁর মাসির বাড়িতে গিয়েছেন। খবর পেয়ে বিশ্বজিত্ সেখানে যান। সেখানেই বিশ্বজিতকে নাকি থাপ্পড় মেরে অপমানজনক কথাবার্তা বলেন দীপা। তাড়িয়ে দেন বাড়ি থেকে। সব ভুলে রাতে ফের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য বলেন বিশ্বজিত্। কিন্তু দীপা সরাসরি না বলে দেন। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে ছবি তুলে স্ত্রীকে পাঠান বিশ্বজিত্। রাতে মা খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে বিশ্বজিতকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যদিও দীপার দাবি, তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।