সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: দিন কয়েক আগে প্রেমিকের বাড়িতে চলে এসেছিল কিশোরী। এরপর ধর্মীয় মতে তারা বিয়েও করে। পরে প্রেমিকের ঘর থেকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় মেয়ের পরিবারের লোকজন। তারপর থেকে সবরকম যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়। এদিকে প্রেমিকাকে কাছে না পেয়ে অভিমানে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনায় জঙ্গিপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যুবকের নাম সন্তু হালদার(২১)। তাঁর আদি বাড়ি ফরাক্কা থানার জিগরি গ্রামে। জঙ্গিপুর স্টেশন সংলগ্ন রেল কলোনি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ওই যুবক পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। যুবকের মৃত্যুর পরও ওই কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ। এপ্রসঙ্গে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ওই যুবক। এদিন সন্ধ্যায় মাকে হোয়াটসঅ্যাপে বাই বাই মা বলে মেসেজ করে। তারপর জঙ্গিপুর স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে নবদ্বীপ ধাম এক্সপ্রেসের সামনে ঝাঁপ দেয় ওই যুবক। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। রেলপুলিস মৃতের বাড়িতে খবর দেয়। মৃতের মা পলি হালদার ছেলের দেহ শনাক্ত করেন। ওই এলাকারই এক কিশোরীর সঙ্গে যুবকের ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে ওই কিশোরী প্রেমিকের কর্মস্থল বিহারের গয়ায় চলে যায়। এরপর কিশোরীর পরিবারের লোকজন মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে যুবকের নামে রঘুনাথগঞ্জ থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরই মধ্যে ওই যুবক কিশোরীকে নিয়ে রঘুনাথগঞ্জে ফিরে আসে। তারপর ওই কিশোরী বাপেরবাড়ি চলে যায়। দিন দু'য়েক আগে ওই কিশোরী আবার যুবকের বাড়িতে চলে আসে। তাকে জোর করে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। সেই দিন থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই যুবক। তাঁর মা জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়েটা বারবার আমাদের বাড়িতে চলে আসত। ওরা মন্দিরে গিয়ে বিয়েও করেছিল। ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছিলাম। কিন্তু, মেয়ের বাবা মায়ের দোষে আমার ছেলেটা চলে গেল।