নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ভাশুরপোর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। সেই কথা পাঁচ কান হওয়ায় সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন কাকিমা। কিন্তু নাছোড় ভাশুরপো রাজি ছিলেন না। তখন শুরু হয় কাকিমাকে ব্ল্যাকমেল। ভাশুরপোর ক্রমাগত হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শেষমেষ নৃশংসভাবে খুন করেন ভাশুরপো সাদ্দাম নাদাবকে (৩১)। অভিযুক্ত কাকিমার নাম মৌমিতা হাসান। পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বিস্ময়ের শুরু অবশ্য তারপর! সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপনের সিহুর থেকে সাদ্দামের দেহ উদ্ধারের পর মৌমিতার মুখে হাড়হিম করা ঘটনার স্বীকারোক্তি শুনে শিউরে উঠেছেন ঝানু পুলিস অফিসাররাও। জানা যায়, গলার নলি কেটে খুনের পর দেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বেঁধে ফেলেছিলেন মৌমিতা। দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির বাঙ্কারে দেহ ঢুকিয়ে ইট গেঁথে দেওয়া হয়েছিল। এসব কাজ মৌমিতা একাই করেছেন বলে দাবি করলেও একাধিক প্রশ্ন উঠছে। তাঁর পক্ষে কি এতটা নিপুণভাবে ইট গাঁথা সম্ভব? তিনি একা এতবড় দেহ বাঙ্কারে ঢোকালেনই বা কীভাবে? উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। মৌমিতার বাবা-মা এবং স্বামীর ভূমিকাও তদন্তকারীদের আতস কাচের তলায় রয়েছে। কারণ, ঘটনার দিন থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের একাংশও জানিয়েছে, ঘটনার দিন কয়েকজন অপরিচিতকে দেখা গিয়েছিল মৌমিতাদের বাড়িতে। ফলে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।



