Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাগদায় ছুটছেন তরুণী প্রার্থী মধুপর্ণা, গরমে ক্লান্তি কাটাতে ভাত-ডালেই ভরসা

বাগদার দুপুর মানেই আগুন ঝরা রোদ। মাটি ফেটে চৌচির। বাতাস গরম। দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে শুরু করেছে। তখনই দেখা যায়, মাথায় ওড়না টেনে, ঘামে ভেজা মুখে একের পর এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছেন ২৬ বছরের মধুপর্ণা ঠাকুর।

বাগদায় ছুটছেন তরুণী প্রার্থী মধুপর্ণা, গরমে ক্লান্তি কাটাতে ভাত-ডালেই ভরসা
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাগদার দুপুর মানেই আগুন ঝরা রোদ। মাটি ফেটে চৌচির। বাতাস গরম। দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে শুরু করেছে। তখনই দেখা যায়, মাথায় ওড়না টেনে, ঘামে ভেজা মুখে একের পর এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছেন ২৬ বছরের মধুপর্ণা ঠাকুর। 

Advertisement

২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জয়ের পর রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা। কিন্তু এই লড়াই কেবল ভোটের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়—এ সহনশক্তি, জেদ আর শৃঙ্খলারও পরীক্ষা। মধুপর্ণার দিন শুরু হয় সাধারণভাবে। সকালে ভাত খেয়েই বেরিয়ে পড়েন। ভাত, টক ডাল, আলু ভাজা, কখনো এঁচোড়-চিংড়ি। বিশেষ ডায়েট চার্ট নেই। আলাদা আয়োজনও নেই। এই সাদামাটা খাবারই তাঁর শক্তির জোগান দেয়। তারপর শুরু টানা পথচলা। সরু গলি, কাঁচা রাস্তা, পুকুরপাড়, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়ানো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলা, হাত মেলানো, কারও অভিযোগ শোনা, কারও আশা জাগানো, এই নিয়েই চলছে প্রচার। বয়স কম, তাই কি গতি বেশি? নাকি নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ? প্রার্থী বলেন, ‘দুটোই পাশাপাশি হাঁটে।’ 
দুপুর গড়ালে ক্লান্তি। তীব্র রোদে শরীরের শক্তি দ্রুত ক্ষয়। সময় মিললে বাড়ি ফেরেন। জলদি লাঞ্চ। ভাত-ডাল, ভাজা, হালকা ঝোল। খাবার শেষ করে ফের বেরিয়ে পড়া। বিশ্রাম এখন মধুপর্ণার অভিধানে জায়গা পায় না। সন্ধ্যা নামার পরও দৌড় চলে। পাড়া বৈঠক, ছোট সভা, স্থানীয়দের সঙ্গে কথাবার্তা, রাত পর্যন্ত চলে প্রচার। রাতে বাড়ি ফিরে ভাতই খান। ঘনিষ্ঠদের কথায়, এই গরমে শরীর ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তাই ঘরোয়া, হালকা খাবারই খাচ্ছেন। গরমে শরীর ভেঙে পড়লে প্রচার থেমে যাবে এই সহজ বিষয়টিই মেনে চলছেন। 
মতুয়া অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে লড়াই শুধু দল বনাম দল নয়, একই পরিবারের দুই শিবিরেরও মুখোমুখি হওয়া। প্রতিপক্ষ সোমা ঠাকুর—পরিবারেরই সদস্য। ফলে এই ভোটে আবেগ, পরিচয়, সম্পর্ক—সব মিলেমিশে এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। তবুও মধুপর্ণা যেন সেই বড় সমীকরণ থেকে খানিকটা দূরেই থাকতে চাইছেন। ২৬ বছর বয়স, এই বয়সেই এমন কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে মধুপর্ণা। রোদ, ক্লান্তি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সবকিছুর মাঝখানে তাঁর সবচেয়ে বড়ো ভরসা হয়ে উঠেছে একেবারে সাধারণ খাবার। মধুপর্ণার কথায়, ‘খাবার আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু গরম তাই বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে। গলা ঠিক রাখার জন্য হালকা গরম জলও খাচ্ছি মাঝেমধ্যে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ