


ব্যাকগ্রাউন্ডে করুণ আবহ। রামগড়ের আকাশ-বাতাসে শুধুই বিরহ। কিশোর কুমারের কণ্ঠে ভেসে আসছে আনন্দ বক্সির লেখা সেই গান, ‘তুনে ইয়ে কেয়া কিয়া/বেওয়াফা বন গ্যায়া/ ওয়াদা তোড় কে/ চল দিয়া ইস তরা/ রাঁহো মে তু মুঝে/ পিছে ছোড়কে/ আগে তু নিকল গ্যায়া/ সাথী তু বদল গ্যায়া...’। বীরুর কোলে ঢলে পড়েছে জয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ। ৫০ বছরে পা দিলেও ‘শোলে’ সিনেমার এই দৃশ্য দর্শকদের কাছে এখনও অমর।
কিন্তু অদৃষ্টের কি নিষ্ঠুর পরিহাস। সেলিম-জাভেদের চিত্রনাট্য বদলে গেল বাস্তবে। জয়কে বন্ধুহীন করে বিদায় নিলেন বীরু। অমিতাভ বচ্চনের কি মনে পড়ছে ‘শোলে’র শ্যুটিংয়ের দিনগুলি? হয়তো ‘ইয়ে দোস্তি’ গুনগুন করছেন তিনি।
চলে গেলেন বীরু। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম হি-ম্যান। ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুকে আর তিনি বলতে পারলেন না, ‘চুন চুনকে মারুঙ্গা’। সেই জিনসের শার্ট-প্যান্ট পরা বীরুর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। চোখের সামনে ‘শোলে’ ভেসে উঠলেই তাঁর অভিনয়ের বিভিন্ন শেড নিশ্চয়ই মনে পড়বে। শুধুমাত্র অ্যাকশন হিরোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাননি তিনি। রামগড়ের বিখ্যাত জলের ট্যাঙ্কের উপর উঠে মওসিকে বলা ডায়লগ ‘চাক্কি পিসিং অ্যান্ড পিসিং’ শুনলে হেসে ফেলবে রামগরুড়ের ছানাও।
হেমা মালিনী ছাড়া ধর্মেন্দ্র অসম্পূর্ণ। তাঁদের প্রেম নিয়ে এখনও অনেক ঘটনা সিনেমাপ্রেমীদের চায়ের আড্ডায় টা’য়ের কাজ করে। শোনা যায়, ‘শোলে’র শ্যুটিংয়ের সময় ক্যামেরাম্যানকে টিপস দিতেন ধরম পাজি। শর্ত একটাই, বাসন্তীর সঙ্গে করা দৃশ্যে যেন বারবার ক্যামেরা খারাপ হয়। তাহলেই কেল্লা ফতে। টেক, রিটেক এবং রিটেক। মনের মানুষ হেমার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ সময় কাটানো যাবে।
‘শোলে’র ৫০ বছরেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন ‘জেলার’ আসরানি। এবার তাঁর সঙ্গে দেখা হবে ধর্মেন্দ্রর। থাকবেন ‘ঠাকুর’ সঞ্জীব কুমার এবং ‘গব্বর’ আমজাদ খানও। মনে পড়ছে কি সেই ডায়লগ? জয়ের মৃত্যুর পর গব্বরের উদ্দেশে বীরুর সেই চিৎকার, ‘আ রহা হুঁ ম্যায়’।
সত্যি এটাই জীবন। এখানে সিনেমার চিত্রনাট্য মেলে না, মিলতে পারে না। বীরুর চলে যাওয়া দেখে হয়তো মনে মনে বলছেন জয়।
সোমনাথ বসু