Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করে শোনাতে হবে মোদির গুণগান! দলের নেতা-কর্মীদের নিদান বিজেপি নেতৃত্বের

ইস্যু হারিয়ে দিশেহারা বিজেপি। ভিনরাজ্যের নেতাদের এনেও কাজ হচ্ছে না।

প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করে শোনাতে হবে মোদির গুণগান!  দলের নেতা-কর্মীদের নিদান বিজেপি নেতৃত্বের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ইস্যু হারিয়ে দিশেহারা বিজেপি। ভিনরাজ্যের নেতাদের এনেও কাজ হচ্ছে না। আর তাই ভোটের মুখে এবার দলের নেতা-কর্মীদের নয়া নিদান গেরুয়া শিবিরের। প্রতিদিন অন্তত ১০ জনকে ফোন করে শোনাতে হবে মোদির গুণগান! বুঝে নিতে হবে টেলিফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির মনের খবর। কথার মারপ্যাঁচে উপলব্ধি করতে হবে, তিনি কি আদৌও পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দেবেন? যদি পজিটিভ মনে হয়, তাহলে কয়েক মিনিট কথা বলেই ফোন রেখে দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি বোঝা যায়, সেই ব্যক্তি এখনও বিজেপিকে ‘ভরসা’ করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে তাঁর ‘মগজ ধোলাই’ করতে হবে। প্রয়োজনে বেশিক্ষণ ধরে কথা চালিয়ে যেতে হবে তাঁর সঙ্গে। বিজেপি নেতা-কর্মীদের এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের তরফে। 

Advertisement


জানানো হয়েছে, ফোন করতে বলা হয়েছে মানে কাউকে টেলিফোন করে খোশগল্প করা নয়। রাজনৈতিকভাবে সচেতন এমন ব্যক্তিকেই ফোন করতে হবে। দু-একটা ভালোমন্দ কথা বলার পরই ঢুকে পড়তে হবে ‘লাইনে’। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে ‘প্রভাবিত’ করতে কোন কোন বিষয়ে কথা বলতে হবে, নেতা-কর্মীদের তারও গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে গেরুয়া পার্টি। দলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট পর্যন্ত মন দিয়ে করতে হবে এ কাজ। একই ব্যক্তিকে রোজ ফোন করা যাবে না। প্রতিদিন বেছে নিতে হবে নতুন ১০ জনকে। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বা জেলার হতে হবে, এমন কোনো মানে নেই। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গেই কথা বলা যাবে। তবে এটা যেহেতু জনমত সমীক্ষার অংশ, ফলে কোন এলাকার মানুষের কাছ থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া মিলছে, যাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে, তাঁরা নিজের এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের সম্পর্কে কী ইনপুট দিচ্ছেন, তার খসড়া রিপোর্ট জানাতে হবে দলকে। নেতা-কর্মীরা নিয়মিত ফোন করার কাজটি ঠিকমতো করছেন কি না, তার উপরও নজর রাখবে পদ্ম শিবির। যদিও এনিয়ে বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর তোপ, মানুষ বিজেপির আসল রূপ ধরে ফেলেছে। এখন ১০টা কেন, দিনে ১০০টা ফোন করেও কোনো লাভ হবে না। জলপাইগুড়ি ১ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি মনোজ শাহ বলেন, দলের নির্দেশ মেনে আমি রোজ ১০ জনকে ফোন করছি। এই সুবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর কথা হচ্ছে। রাজগঞ্জের বিজেপি নেতা তথা দলের উদ্বাস্তু সেলের জেলা আহ্বায়ক হারাধন সরকার বলেন, ফোনে যাঁদের সঙ্গে কথা বলছি, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের দাবি, প্রতিদিন ১০ জনকে ফোন করার যে কাজ দেওয়া হয়েছে, দলের নেতা-কর্মীরা তা ভালোভাবে করছেন। তাঁদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া মিলছে, তা খুবই ভালো।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ