প্রিয়ব্রত দত্ত: • আজকের হিন্দি ছবিতে এমন কিছু চরিত্র তৈরি হচ্ছে যাদের গুরুত্ব হিরো-হিরোইনকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে, আপনি কি সহমত?
‘ক্যারেকটার অ্যাক্টর’ শব্দটায় বিশ্বাস করি না। পরিবারে বাবা, মা, ভাই, বোনের যেমন ভূমিকা থাকে তেমনি ছবিতে ছোটো, বড়ো প্রতিটি চরিত্রের গুরুত্ব থাকে। কোনো একটা বা একাধিক দৃশ্যে অভিনয়ের মাধ্যমে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করি নিষ্ঠার সঙ্গে।
• সিনেমার দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা আশঙ্কার?
দেখুন, এইসব বিষয় নিয়ে আমি মাথাই ঘামাই না। কারণ আমি এসব বুঝিই না। (হেসে) টেকনোলজি থেকে আমি বহু দূরে। আমি থিয়েটারের মানুষ। রঙ্গমঞ্চ রক্ত মাংসের জীবন্ত আধার। ওখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনও কাজে লাগবে না।
• নাসিরুদ্দিন শাহ, সুপ্রিয়া পাঠক, মনোজ পাহওয়া, আপনি...অনুভব সিনহার ‘অসসি’তে একসঙ্গে যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুভূতি তৈরি হয়?
অভিনয় এমন একটা শিল্পকলা, যেখানে প্রতিযোগিতার প্রশ্নই নেই। বরং ফ্লোরে এতজন গুণী শিল্পীর সমাবেশে একজনের অভিনয় নৈপুণ্যে সহ অভিনেতারও সৃজনশীলতার বৃদ্ধি ঘটায়।
• আপনাকে চরিত্রের নামে দর্শক ডাকতে শুরু করলে কি আনন্দিত হন না, বিব্রত?
কোনোটাই না। আমি তো আমিই। একজন অভিনেতার অভিনীত কিছু চরিত্র মানুষের স্মৃতিতে বহুকাল থেকে যায়, এটা ঠিক। কিন্তু আমি জানি, যখন পরবর্তী কোনও চরিত্রের জন্য মেকআপ নিতে বসব, তখন আগের অভিনীত চরিত্রটা ধীরে ধীরে আমার অস্তিত্ব থেকে মুছে ফেলব। মানুষও মেতে উঠবে আমার নতুন আমিটাকে নিয়ে।
• আপনি চরিত্রদের নির্বাচন করেন না, চরিত্ররাই আপনার দিকে ধেয়ে আসে?
(হাসি) চরিত্ররাই আমাকে ধাওয়া করে। পরিচালক, প্রযোজকরা আমাকে নির্বাচন করেন।
• কোনটা বেশি প্রাধান্য দেন, চিত্রনাট্য না চরিত্র?
চিত্রনাট্য। কারণ, চিত্রনাট্যটাই সিনেমা। পুরো প্রজেক্টটার মেরুদন্ড। তারপর দেখি আমি সেই চিত্রনাট্য বা সিনেমার অংশ হয়ে উঠতে পারছি কি না।
• সিনেমা, সিরিজেদের ব্যস্ততার মধ্যেও থিয়েটার কীভাবে বজায় রেখেছেন?
আমাদের ‘ডি ফর ড্রামা’ গ্রুপ এখন সাতটা নাটক একসঙ্গে মঞ্চস্থ করছে। তারমধ্যে চারটে নাটকে আমি অভিনয় করছি। মন থেকে চাইলে থিয়েটারের জন্য সময় ঠিক বেরিয়ে আসবে। আর কলকাতায় এলে মনে হয় সব ছেড়ে দিয়ে থিয়েটারটাই করি, এত ভালো দর্শক। কিন্তু থিয়েটার করে তো আর সংসার চলে না। তাই অন্ন সংস্থানের জন্য সিনেমা, সিরিজটাও করতেই হবে। (হাসি)



