নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারে সব রাজনৈতিক অঙ্ক ও সমীকরণ বদলে দিয়েছিল নীতীশ কুমারের একটি শেষ মুহূর্তের রণকৌশল। নিছক এসআইআরের কারণেই এনডিএ জোটের বিহার জয় করতে পেরেছিল, এরকম নয়। বরং রাজনৈতিক মহল এমনকি বিরোধীরাও বারংবার বলেছে যে, ১০ হাজার টাকা করে মহিলাদের এককালীন অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তই বিহারে ভোটের ফলাফলকে সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই সফল ফরমুলাকে গ্রহণ করে বিহারের তুলনায় আরও কঠিন যুদ্ধজয় করার লক্ষ্য নিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। রামমন্দিরে প্রণামি চুরি এবং জেন জির বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের আবহে কিছু মাস পরই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোট। উন্নয়ন, হিন্দুত্ব অথবা নিজের অপরাধ বিরোধী শক্তিশালী ভাবমূর্তির উপর আর নিছক ভরসা রাখতে পারছেন না যোগী। তাই বিহারের ধাঁচে মহিলাদের অনুদানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু ১০ হাজার নয়। এক ধাক্কায় ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে উত্তরপ্রদেশের মহিলাদের। তবে ভোটের আগে ২০ হাজার টাকা। ভোটে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করা হলে পুনরায় বকেয়া ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সরাসরি আর্থিক অনুদানকে ভোটের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা ভারতে নতুন নয়। রাজ্যে রাজ্যে শাসক ও বিরোধী সব দলই এই রীতিতেই রাজনীতি করে চলেছে। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তারা ঘোষণা করে, প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত করে না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট হয়েছে দিল্লিতে। আজও দিল্লির মহিলারা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পায়নি। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতাসীন হলে অন্নপূর্ণা যোজনায় তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে মহিলাদের— এরকমই ছিল ঘোষণা। অথচ সরকারে অসীন হওয়ার পর বাংলায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে হাজারো শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। যা নিয়ে ক্ষোভ চরমে। দিল্লিতেও অপ্রাপ্তির ক্ষোভ, বাংলাতেও কথা খেলাপের রাগ। এই অবস্থায় যোগী আদিত্যনাথ সত্যিই ৫০ হাজার টাকা করে দেবেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। অখিলেশ যাদব বলেছেন, টাকা ছাড়া বিজেপির জেতার কোনো উপায় নেই। তাই এই মরিয়া প্রচেষ্টা। কিন্তু আদৌ এই ঘোষণা অনুযায়ী যোগী সরকার টাকা দেবে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য এই প্রতিশ্রুতি আসলে প্রলোভন। অখিলেশ যাদব যতই এই আক্রমণ করুন, প্রথমে ২০ হাজার টাকা হাতে পাওয়া এবং পরে ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার স্বপ্ন অবশ্যই মহিলা ভোটারদের মন জয় করার জন্য যথেষ্ট বৃহৎ এক কৌশল। প্রায় আড়াই বছর হয়ে গিয়েছে ভোটারদের সরকারি আর্থিক অনুদান দিয়ে মন জয় করার এই প্রক্রিয়াকে আর রেউড়ি কালচার বলা হয় না। কে বলতেন? প্রধানমন্ত্রী মোদি।



