


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বসন্তে পলাশের শোভা দেখতে রুখাশুখা পুরুলিয়ায় ছুটে আসে পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমিকরা। তবে তাঁর মূলত লাল পলাশ দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন এতদিন। বর্তমানে রঘুনাথপুরের বেড়ো পাহাড়ের হলুদ পলাশ পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তবে সেই পলাশ গাছ কতদিন রক্ষা করা যাবে তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা। স্থানীয় পরিবেশ প্রেমী ও বনদপ্তরের তরফে হলুদ পলাশ গাছটিকে কাঁটা দিয়ে ঘেরা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়ো পাহাড়ের পশ্চিমে একটি গাছে হলুদ পলাশ ফুটছে। সেই পলাশ দেখতে কলকাতা, মেদিনীপুর, হুগলি সহ পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসছেন। বর্তমানে হলুদ পলাশ গাছটি পর্যটকদের সেলফি পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে বেড়োর পশ্চিম পাহাড়ে গ্রানাইট হাবের কাজ চলছে, তাই পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। সেই পাহাড়েই রয়েছে হলুদ পলাশ গাছটি। পাহাড় কাটার ফলে আগামী দিন সেই গাছটিও যে কাটা পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু এলাকার বাসিন্দারা গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখার সমস্ত রকম চেষ্টা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশচন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, এখানে একটিই মাত্র হলুদ পলাশ গাছ রয়েছে। সেই গাছটিকে আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন। গাছটির চারপাশ কাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। সাঁতুড়ির শিক্ষক উজ্জ্বল গোপ বলেন, বর্তমানে পুরুলিয়ায় লাল, হলুদ, সাদা পলাশ দেখা যাচ্ছে। সেই পলাশ দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। বেড়োর পাহাড়ের হলুদ পলাশ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
কলকাতার শুভ্রকান্তি রায়, আরামবাগের অলকা সেন প্রমুখ পর্যটকরা বলেন, পুরুলিয়ার চারপাশে পলাশের শোভা সত্যিই মুগ্ধ করেছে। তবে বেড়োর হলুদ পলাশ আমাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে দেখলাম একটা আস্ত পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে ওই গাছটি কত দিন টিকে থাকবে তা ভাবা প্রয়োজন। রঘুনাথপুরের বন বিভাগের রেঞ্জার নীলাদ্রি সখা বলেন, পলাশ গাছকে বিশেষ সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। বেড়ো পাহাড়ের হলুদ পলাশ গাছটিকে আমাদের তরফ থেকেও বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই গাছের বীজ সংগ্রহ করে আগামী দিনে চারা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।