Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

বৎসর

নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্য্য ব্রত বার বৎসর, তিন বৎসর, বা এক বৎসরের জন্যও নেওয়া যায়। এখন তোমাকে এক বৎসরের জন্যই এই ব্রত দিচ্ছি।

বৎসর
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্য্য ব্রত বার বৎসর, তিন বৎসর, বা এক বৎসরের জন্যও নেওয়া যায়। এখন তোমাকে এক বৎসরের জন্যই এই ব্রত দিচ্ছি। যদি নিয়ম রক্ষা ক’রে ঠিকমত এই এক বৎসর চল্‌঩তে পার, তবে আবার দেওয়া যাবে। নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্য্যের নিষ্ঠাই মূল। নিষ্ঠাটি খুব চাই। নিজের নিষ্ঠা কোনও অবস্থায়ই ত্যাগ কর্‌঩বে না। যে সব নিয়ম ব’লে দিচ্ছি, নিষ্ঠার সহিত সে সব নিয়ম রক্ষা ক’রে চল্‌঩বে।
১। প্রতিদিন ব্রাহ্মমুহূর্ত্তে উঠে সাধন কর্‌঩বে। পরে প্রাতঃক্রিয়া সমাপন করে শুচি শুদ্ধ হয়ে আসনে বস্‌঩বে। গায়ত্রী জপ কর্‌঩বে। তার পর গীতা অন্ততঃ এক অধ্যায় ক’রে পাঠ কর্‌঩বে। পাঠ শেষ ক’রে আবার সাধন কর্‌঩বে। স্নানান্তে গায়ত্রী জপ ক’রে তর্পণাদি কর্‌঩বে।
২। স্বপাক আহার কর্‌঩বে, অথবা ভাল ব্রাহ্মণের রান্না অন্নও আহার কর্‌঩তে পার। আহারে কোন প্রকার অনাচার না হয়। আহারের একটা নিয়ম রাখ্‌঩বে। পরিমিত আহার কর্‌঩বে, খুব বেশী বা কম না হয়, যাতে কামভাব উত্তেজিত হয় এমন বস্তু খাবে না। অধিক পরিমাণ ঝাল, অম্ল ও মিষ্টি ত্যাগ কর্‌঩বে। মধু ও ঘৃতে উত্তেজনার বৃদ্ধি হয়; এসব বস্তুও অধিক খাবে না। আহারসম্বন্ধে সর্ব্বদাই খুব সাবধানে থাক্‌঩বে। আহারটি বেশ শুদ্ধমত কর্‌঩বে।
৩। আহারান্তে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম কর্‌঩বে। পরে ভাগবত, মহাভারত, রামায়নাদি কিছু সময় পাঠ কর্‌঩বে। পাঠের পর নির্জ্জনে ব’সে ধ্যান কর্‌঩বে। বিকাল বেলায় ইচ্ছা হলে একটু বেড়াতে পার।
৪। সন্ধ্যার সময়ে গায়ত্রী জপ কর্‌঩বে। পরে সাধনাদি যেমন ক’রে থাক তেমনই কর্‌঩বে। খুব ক্ষুধা বোধ হলে সামান্য কিছু জলযোগ  কর্‌঩বে। অন্নাহার দু’বেলা করবে না।
৫। নিতান্ত সামান্য বসন পর্‌঩বে। সামান্য শয্যায় শয়ন কর্‌঩বে। এ সকল নিজের নির্দ্দিষ্ট রাখ্‌঩বে। দিনের বেলায় নিদ্রা ত্যাগ কর্‌঩বে। সময়ে সময়ে সাধুসঙ্গ কর্‌঩বে, সাধুদের উপদেশ শ্রদ্ধার সহিত শুন্‌঩বে। নিজের সাধনে বিশেষরূপে নিষ্ঠা রাখ্‌঩বে।
৬। কাহারও নিন্দা কর্‌঩বে না; কাহারও নিন্দা শুন্‌঩বে না; যে স্থানে নিন্দা হয় সে স্থান বিষবৎ ত্যাগ কর্‌঩বে।
৭। কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক ভাব রাখ্‌঩বে না। যিনি যে ভাবে সাধন করেন তাঁকে সেই ভাবেই সাধন কর্‌঩তে উৎসাহ দিবে।
৮। কাহারও মনে কষ্ট দিবে না; সকলকেই সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা কর্‌঩বে। অন্যের সেবা তোমার দ্বারা যতদূর সম্ভব হয়, কর্‌঩বে। মনুষ্য, পশু, পক্ষী, বৃক্ষলতা প্রভৃতির যথাসাধ্য, সেবা কর্‌঩বে। নিজেকে অন্যের নিকটে ছোট মনে কর্‌঩বে। সকলকে মর্য্যাদা দিবে। প্রতি কার্য্যই বিচার ক’রে কর্‌঩বে। সর্ব্বদা প্রতি কার্য্যে বিচার ক’রে চল্‌঩লে কোনও বিঘ্ন হয় না।
৯। সর্ব্বদা সত্য বাক্য বল্‌঩বে; সত্য ব্যবহার কর্‌঩বে। অসত্য কল্পনা মনেও আস্‌঩তে দিবে না। কথা কম বল্‌঩বে।
১০। যুবতী স্ত্রীলোক স্পর্শ কর্‌঩বে না। দেবদর্শনে, গোলমালে, রাস্তায় ঘাটে বা অজ্ঞাতসারে স্পর্শ হ’লে তাহা স্পর্শমধ্যে গণ্য হবে না। অতি গোপনে নিজের কাজ ক’রে যাবে।
১১। সর্ব্বদাই খুব শুচি শুদ্ধ হ’য়ে থাক্‌঩বে। পবিত্র স্থানে পবিত্র আসনে বস্‌঩বে। এ সমস্ত নিয়ম রক্ষা করে চলতে পারলে আগামী বৎসর আরও নিয়ম ব’লে দেওয়া যাবে।

Advertisement

শ্রীকুলদানন্দ ব্রহ্মচারীর, ‘শ্রীশ্রীসদ্‌গুরুসঙ্গ’ (২য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ