বিদ্যুৎ পাতর: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের শিল্পভিত্তি ছিল দুর্বল! আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিকাঠামো ছিল সীমিত। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদেরও ছিল তীব্র ঘাটতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঔপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উত্তরাধিকার— যা দারিদ্র, অশিক্ষা ও সামাজিক বৈষম্যকে আরও গভীর করেছিল। ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পরও প্রকৃত স্বাধীনতার ভিত গড়ে তোলার কাজ ছিল বাকি। সামনে ছিল একইসঙ্গে একটি আধুনিক ‘রাষ্ট্র’ এবং একটি আধুনিক সমাজ নির্মাণের কঠিন দায়িত্ব। আর সেই নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে ‘শিক্ষা’। ১৯৫১ সালের প্রথম জনগণনায় ভারতের সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ১৮.৩৩ শতাংশ। কিন্তু অশিক্ষা তখন কেবল পড়তে বা লিখতে না পারার সমস্যা ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দারিদ্র, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক বৈষম্য এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিলেন ভূমিহীন। নারীরা শিক্ষা ও সম্পত্তির অধিকার থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত ছিলেন। সামাজিকভাবে নিপীড়িত বহু সম্প্রদায়ের কাছেও দীর্ঘদিন শিক্ষার সুযোগ অধরাই ছিল। স্বাধীন ভারতের সামনে তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন ছিল—দেশ কি আগে ধনী হবে, তার পরে শিক্ষিত হবে? ভারত বুঝেছিল, শিক্ষা ও জ্ঞানকে উন্নয়নের ফল হিসাবে অপেক্ষা করিয়ে রাখলে উন্নয়নই হয়তো কখনো আসবে না। একটি দরিদ্র দেশের কাছে শিক্ষা তাই কোনো অতিরিক্ত সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প ছিল না। ছিল ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান উপায়। একটি দরিদ্র দেশের কাছে শিক্ষা যদি বিলাসিতা হয়, তবে সেই দেশ চিরকাল দরিদ্রই থেকে যায়। যে মানুষকে জ্ঞান থেকে দূরে রাখা হয়, তাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার করা যায় না। যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে না, সেখানে গণতন্ত্রও কেবল নির্বাচনের একটি পদ্ধতিতে পরিণত হতে পারে। আর যে রাষ্ট্র নিজের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং গবেষক তৈরি করতে পারে না, সে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেও বাস্তবে অন্যের উপর নির্ভরশীল থেকে যায়। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রজন্মের নেতৃত্ব এই সত্যটি বুঝেছিল। সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এই ধারণা আরও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেল। নতুন ভারত এমন একটি রাষ্ট্র নির্মাণের চেষ্টা করছিল যেখানে শিক্ষা, অধিকার এবং সুযোগের বিস্তার হবে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
স্বাধীন রাষ্ট্রকে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, প্রশাসন এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন ছিল বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক এবং দক্ষ পেশাজীবী। এই কারণেই স্বাধীনতার প্রথম দশকেই ভারত এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শুরু করল, যেগুলি পরবর্তীকালে ভারতের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ১৯৫১ সালে খড়গপুরে ভারতের প্রথম ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আরও গভীর! কারণ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল হিজলি বন্দিশিবিরের (ডিটেনশন ক্যাম্প) স্থানে। ইংরেজ আমলে এই স্থানেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি রাখা হত। ১৯৩১ সালের হিজলি ফায়ারিংয়ের ঘটনায় দুই নিরস্ত্র বন্দি সন্তোষকুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত নিহত হন। সুভাষচন্দ্র বসু তাঁদের দেহ সংগ্রহের জন্য হিজলিতে এসেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন। ইতিহাস কখনো কখনো প্রতীকের মাধ্যমে কথা বলে। যেখানে এক দিন স্বাধীনতার স্বপ্নকে বন্দি রাখা হয়েছিল, স্বাধীন ভারত সেখানেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে শুরু করল। এই পরিবর্তনটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়। স্বাধীন ভারতের মানসিকতারও পরিচয়। একটি দরিদ্র দেশও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়ো স্বপ্ন দেখতে পারে! ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যই বড়ো স্বপ্ন দেখা প্রয়োজন।
পরবর্তী দশকগুলিতে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন’ এবং ১৯৫৬ সালে ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস’। এই প্রতিষ্ঠানগুলি কেবল শিক্ষাদানের কেন্দ্র ছিল না, ছিল সদ্যোজাত রাষ্ট্রের জ্ঞান, দক্ষতা এবং সক্ষমতা নির্মাণের বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। আত্মনির্ভরতার ভাবনার আর এক অসাধারণ উদাহরণ ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি। ১৯৬০-এর দশকে, যখন ভারত খাদ্যাভাব, দারিদ্র এবং সীমিত সম্পদের নানা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করছিল, তখনও দেশ মহাকাশ গবেষণায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রথম উপগ্রহ ‘আর্যভট্ট’ মহাকাশে পাড়ি দেয়। প্রশ্ন উঠতে পারে—যে দেশে তখনও বহু মানুষের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার নিশ্চয়তা নেই, সেই দেশ মহাকাশ গবেষণায় বিনিয়োগ করল কেন? কারণ স্বাধীন ভারতের কাছে বিজ্ঞান বিলাসিতা ছিল না। মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, আবহাওয়া, কৃষি, প্রাকৃতিক সম্পদ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং শিক্ষার মতো বাস্তব জাতীয় প্রয়োজন যুক্ত ছিল।
চিকিৎসা এবং ওষুধের ক্ষেত্রেও একই দীর্ঘ পরিবর্তন দেখা যায়। স্বাধীনতার সময় ভারতের ওষুধ উৎপাদন সীমিত ছিল এবং বিদেশি নির্ভরতা ছিল উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী দশকগুলিতে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং শিল্পের সমন্বয়ে ভারত একটি শক্তিশালী ওষুধ শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। আজ ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ। জেনেরিক ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং সুলভ চিকিৎসা-উপকরণের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বিশ্বের বহু দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ভারতের ওষুধ শিল্প আজ কেবল একটি শিল্পক্ষেত্র নয়। ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা, শিল্প দক্ষতা এবং মানবসম্পদের সম্মিলিত ফল। ভারতীয় চিকিৎসকরাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একই কথা প্রযোজ্য তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর ভারতের শিক্ষিত মানবসম্পদের গুরুত্ব আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবা অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিরও প্রধান সম্পদ হয়ে ওঠে। তবে এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আপত্তির অভাব ছিল না। বিশেষত কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাকে সামনে রেখে একাংশের রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন এই রূপান্তরের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদই বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীরা বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। ভারতীয় সংস্থাগুলি বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ভারত কেবল তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি। নিজস্ব ডিজিটাল পরিকাঠামোও তৈরি করেছে। অনলাইন সরকারি পরিষেবা এবং ইউপিআই-এর মতো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা একটি বিপুল এবং বৈচিত্রময় দেশের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিয়েছে। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো আজ বিশ্বের নানা দেশের আগ্রহের বিষয়।
ভারতের শক্তি কেবল তার নিজস্ব ভূখণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয়রা কেবল চাকরি করছেন না। বহু ক্ষেত্রে তাঁরা প্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন, গবেষণা পরিচালনা করছেন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই বিশ্বব্যাপী ভারতীয় মানবসম্পদের সাফল্যও ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বৃহত্তর ফল। ভারতীয় শিক্ষার শক্তি এখানেই যে, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তার সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের একটি সম্পর্ক বজায় থেকেছে। নিজের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আধুনিকতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে। এই কারণেই ভারতের সাফল্যকে কেবল ‘পশ্চিমকে অনুসরণ’ করার গল্প হিসেবে দেখা যায় না। ভারত আধুনিক জ্ঞান গ্রহণ করেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তার নিজস্ব সামাজিক বাস্তবতা এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তা করেছে। স্বাধীনতার পর গত প্রায় আট দশকে ভারত যে পথ অতিক্রম করেছে, তার দিকে ফিরে তাকালে অগ্রগতির ব্যাপ্তি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। একটি দরিদ্র, সদ্য স্বাধীন এবং বিপুল সামাজিক বৈচিত্রে ভরা দেশ থেকে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, ওষুধ, মহাকাশ, শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত বহু দূর এগিয়েছে। এই অগ্রগতি কোনো একটি দশকের ফল নয়। এর পিছনে রয়েছে ১৯৪৭-এর পর নেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত—জ্ঞান এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ। এই অগ্রগতি কোনো একটি প্রজন্মের কৃতিত্বও নয়। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক প্রজন্মের নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, প্রশাসক এবং সাধারণ নাগরিক তাঁদের নিজ নিজ সময়ে দেশের জন্য কাজ করেছেন।
ভারত আরও দ্রুত এগতে পারত কি না, কোথায় আরও উন্নতি সম্ভব ছিল—এই প্রশ্নগুলি ইতিহাসের স্বাভাবিক অংশ! আত্মসমালোচনা প্রয়োজন! কিন্তু সেই আত্মসমালোচনা যেন কখনো আত্মঅবমূল্যায়নে পরিণত না হয়। আজ ভারতের সামনে অবশ্যই বহু সমস্যা রয়েছে। শিক্ষার মান, গবেষণার গুণমান, উচ্চশিক্ষায় সুযোগের বিস্তার, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, আন্দোলন এবং তার জেরে তৈরি হওয়া সামাজিক অস্থিরতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। গণতন্ত্রে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবিদাওয়া শোনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে একইসঙ্গে এই কথাটিও মনে রাখতে হবে, যেকোনো গণআন্দোলনকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা কিংবা দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে দেশীয় বা বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ‘দেশের চেয়ে বড়ো কোনো আবেগ নেই’। জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই আমাদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে, যাতে আগামী দিনের ভারত আরও শক্তিশালী, আরও ন্যায়সঙ্গত এবং আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের মতো উদ্যোগকে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সংকীর্ণ পরিসরে না দেখে একটি বৃহত্তর জাতীয় প্রয়োজন হিসেবে দেখা দরকার। ভারতের বর্তমান নেতৃত্ব যে জটিলতা, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং নানাবিধ আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, তার মূল্যায়নও ইতিহাসের বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতেই হওয়া উচিত। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, আলোচনা থাকবে, সমালোচনা থাকবে, সংশোধনের প্রয়োজনও থাকবে। কিন্তু এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যদি দেশ আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আরও দক্ষ প্রশাসন এবং আরও ন্যায়সংগত সুযোগের দিকে এগিয়ে যায়, তবে সেটিই হবে প্রকৃত অগ্রগতি। ভারত আরও এগতে পারে। আরও দ্রুত এগতে পারে। আরও ন্যায়সঙ্গতভাবে এগতে পারে। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যও প্রথম শর্তটি একই থাকবে—শিক্ষাকে কখনো বিলাসিতা হতে দেওয়া যাবে না।
লেখক ইতিহাসের অধ্যাপক, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়