Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীকে হেনস্তার ঘটনায়   হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীকে হেনস্তার ঘটনায়   হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে হেনস্তা এবং অশান্তির ঘটনায় এসে পড়ল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। রা‌জ্য পুলিসের গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণেই এমনটা ঘটেছে বলে মনে করছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, এই প্রবণতা খুব খারাপ। ভবিষ্যতে আরও খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে। বিচারপতি বলেন, ‘এত বড় ঘটনা স্পেশাল ব্রাঞ্চের শিক্ষা নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। গোয়েন্দারা ব্যর্থ হলে আগামী দিনে প্রতিবেশী দেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।’ পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন থাকা উচিত বলেও মনে করছে আদালত। 
Advertisement
অন্যদিকে খবর, যাদবপুর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নিরাপত্তা বাড়ানো হল। এবার থেকে তিনি জেড ক্যা঩টিগরির নিরাপত্তা পাবেন।
যাদবপুরের ঘটনায় সব মিলিয়ে সাতটি এফআইআর রুজু হলেও পুলিস বাম ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ নিচ্ছে না। এই অভিযোগেই হাইকোর্টে মামলা হয়। এদিন সেই মামলার শুনানিতে রাজ্য জানায়, শনিবারের ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। যদিও আদালত প্রশ্ন তুলেছে, আহত ছাত্রের বয়ানের ভিত্তিতে কেন মামলা রুজু করা হল না? একপেশে তদন্ত নয়, রাজ্যের উচিত অভিভাবকের মতোই কাজ করা। এরপরই বিচারপতি ঘোষ তাঁর নির্দেশে জানান, আহত ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিসকে বুধবারই এফআইআর দায়ের করতে হবে। ১২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন এই ঘটনা সম্পর্কে রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ। 
এদিকে, অচলাবস্থা কাটাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদনে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্বশাসিত সংস্থা। যদিও আইন অনুযায়ী, রাজ্যের কোনও ক্ষমতা থাকলে রাজ্য তা প্রয়োগ করতে পারে। এছাড়া যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত মিছিল করার দাবিতে হাইকোর্টে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
জখম পড়ুয়াদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন—সেই মানসিক চাপ আর নিতে পারছিলেন না অস্থায়ী উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। বুধবারই তাঁকে ক্যাম্পাসে ফেরার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তবে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন সকালেই তাঁকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বিকেলে তাঁকে দেখতে যান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওয়েবকুপার নেতারা। ছাত্রদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উপাচার্যের শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে অনুরোধ করব, তাঁর সঙ্গে যেন মানবিক আচরণই করা হয়। এই অবস্থায় ছাত্ররা তাঁকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য জোর করতে পারেন না। তাঁদের বাড়ির কারও এমন পরিস্থিতি হলে তাঁরা কি এই আচরণ করতে পারতেন?’
উপাচার্যের স্ত্রী কেয়া গুপ্তও আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, ‘ভাস্করবাবুকে যেন তাঁদের সামনে যাওয়ার জন্য জোর না করা হয়।’ তাঁর আক্ষেপ, ‘অসুস্থ ছাত্রদের দেখতে গিয়েই আক্রান্ত হলেন ভাস্করবাবু! তাঁকে গালাগাল করা, জামা ছিঁড়ে দেওয়া সবই হয়েছে। তারপর থেকেই তিনি অসুস্থ।’ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘তাঁর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর ১৪-১৫ দিন লাগবে।’ এদিন, বর্তমান এবং প্রাক্তন উপাচার্যরা শিক্ষামন্ত্রী ও ভাস্কর গুপ্তের উপর সংঘটিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন। লিখিত বিবৃতিতে তাঁরা এই আক্রমণকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়েছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ