Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অন্তঃসত্ত্বাকে ভুল ওষুধ! গর্ভপাতের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা দত্তপুকুরে

দত্তপুকুরে ভুল ওষুধ খাওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা টুম্পার গর্ভপাতের অভিযোগে উত্তেজনা। পুলিশ আটক করেছে দোকানের মালিক। বিস্তারিত পড়ুন।

অন্তঃসত্ত্বাকে ভুল ওষুধ! গর্ভপাতের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা দত্তপুকুরে
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মায়ের কোল ভরার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! প্রেসক্রিপশনে লেখা ছিল এক ওষুধ, আর ওষুধের দোকান থেকে হাতে তুলে দেওয়া হল অন্য ওষুধ। পরিবারের অভিযোগ, সেই ‘ভুল’ ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শুরু হয় রক্তক্ষরণ। শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি গর্ভস্থ সন্তানকে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ওষুধের দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ভাঙচুরেরও চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দোকানের মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নীলগঞ্জের খড়ের মাঠ এলাকায় বাড়ি টুম্পা বরের (নাম পরিবর্তিত)। বিয়ের চার বছর পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। গর্ভে প্রাণের স্পন্দন এসেছে পাঁচ মাস আগে। নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, গর্ভস্থ শিশুর আকার তুলনামূলকভাবে বড়ো হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে বিশেষ সতর্কতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেইমতো চিকিৎসাও চলছিল। কয়েকদিন আগে রুটিন চেক-আপের জন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন টুম্পা। চিকিৎসক তাঁকে বেশ কয়েকটি ওষুধ লিখে দেন। তারমধ্যে একটি ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার নীলগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কেনেন তিনি। অভিযোগ, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা ছিল এক ওষুধ, আর দোকানি তাঁকে দিয়েছিলেন অন্য। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে গৃহবধূর। প্রথমে রক্তক্ষরণ এবং তীব্র পেটব্যথা শুরু হয় টুম্পার। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নার্সিংহোমে এক চিকিৎসকের কাছে। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ মাসের গর্ভস্থ সন্তানকে আর বাঁচানো যায়নি। 
গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যদের দাবি, চিকিৎসককে প্রেসক্রিপশন আর ওষুধ দেখাতেই ভুল ধরা পড়ে। চিকিৎসক আমাদের জানান, যে ওষুধ তাঁকে দেওয়া হয়েছে, তার জেরেই গর্ভপাত হয়েছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। সোমবার রাতেই বহু মানুষ নীলগঞ্জের ওই ওষুধের দোকানের সামনে জড়ো হন। ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। একসময় উত্তেজিত জনতা দোকান ভাঙচুরেরও চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে দত্তপুকুর ও আমডাঙা থানার পুলিশ। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
স্থানীয় বাসিন্দা পঙ্কজ বিশ্বাস ও রতন রায়ের অভিযোগ, আগেও এই ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ভুল থেকে যদি মালিক শিক্ষা নিতেন, তাহলে আজ আরেকটি প্রাণকে হারাতে হতো না। আমরা ওদের কঠোর শাস্তি চাইছি। দত্তপুকুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওষুধের দোকান মালিক ব্যোমকেশ বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ