Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ত্রিস্রোতা মহাপীঠে কষ্টিপাথরের গর্ভেশ্বরীর মূর্তির পাশেই ঘট বসিয়ে মা দুর্গার আরাধনা

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাবেক ছিট নাউতারি দেবোত্তর মৌজায় প্রায় সাড়ে চারশো বছরের প্রাচীন দুর্গাপুজো ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি। এখানে দেবী দুর্গা মহামায়ারূপে পূজিত হন।

ত্রিস্রোতা মহাপীঠে কষ্টিপাথরের গর্ভেশ্বরীর মূর্তির পাশেই ঘট বসিয়ে মা দুর্গার আরাধনা
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাবেক ছিট নাউতারি দেবোত্তর মৌজায় প্রায় সাড়ে চারশো বছরের প্রাচীন দুর্গাপুজো ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি। এখানে দেবী দুর্গা মহামায়ারূপে পূজিত হন। 

Advertisement

কথিত আছে, জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবংশে নিত্যপুজো হতো এই মন্দিরের আরাধ্য দেবী গর্ভেশ্বরীর। পাশাপাশি রয়েছে আরও এক দেবী গর্তেশ্বরী। কষ্টিপাথরের নির্মিত দেবী গর্ভেশ্বরীর মূর্তির পাশে ঘট বসিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। 
ত্রিস্রোতা মহাপীঠ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিশচন্দ্র রায় জানান, বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এই মন্দির পরিচালনা করত বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবার। এলাকাটি ছিল দুর্গম বনাঞ্চল। সেইসময় রাজারা হাতির পিঠে চড়ে এখানে পুজো দিতে আসতেন। বৈকুণ্ঠপুরের শেষ রাজা প্রসন্নদেব রায়কতের মৃত্যুর পর ১৭৮৭ সালে এই মন্দির অবলুপ্ত হয়ে যায়। 
স্থানীয় লোকজনের দাবি, এক রাজা দেবীর মূর্তি তুলে নিয়ে যেতে এই মন্দিরে এসেছিলেন। কিন্তু দেবীর মূর্তিটি তখন মাটিতে নীচে ঢুকে যায়। খালি হাতে ফিরতে হয় রাজাকে। ২০০৫ সালে নতুন করে মন্দির বানিয়ে গর্তেশ্বরী ও গর্ভেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকেই দুর্গাপুজা হয়ে আসছে। বর্তমানে মন্দিরে রয়েছে কষ্টিপাথরের তৈরি দেবীর মূর্তি। 
গর্তেশ্বরী ও গর্ভেশ্বরী মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য সারদাপ্রসাদ দাস বলেন, দেবী গর্ভেশ্বরী এখানে চতুর্ভুজা। তাঁর চার হাতে শোভা পাচ্ছে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। দেবীর পদতলে গণেশ। দেবীর বামপদ গণেশের বাঁ কাঁধে। এখানে গণেশ বিরাজ করছেন শতদল পদ্মের ওপর এবং তিনি একদন্তবিশিষ্ট। এলাকার মানুষের বিশ্বাস, এইস্থানে সতীর আঙুলবিহীন বাঁ পা পড়েছিল। যা এই মন্দিরের গর্ভগৃহে সযত্নে রক্ষিত। 
মন্দিরের অদূরেই পাঙ্গা, যমুনা ও করতোয়া নদীর মিলনস্থল। যে কারণে গর্ভেশ্বরী মন্দিরকে ‹ত্রিস্রোতা পীঠ› বলা হয়। প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে বৈকুণ্ঠপুরের রাজারা ৪৪৬ একর জমি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেখে গিয়েছেন এই দেবীর নিত্যসেবার জন্য। 
এ বিষয়ে গর্তেশ্বরী ও গর্ভেশ্বরী দুর্গোৎসব কমিটির সদস্য উত্তমকুমার সেন ও ককেনচন্দ্র রায় জানান, ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান মন্দির প্রাঙ্গণে। এছাড়াও এই পুজোর মূল আকর্ষণ হল অষ্টমীর দিন কুমারীপুজো। সেদিন মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় অনেকটাই বেড়ে যায়। বছরভরই ভক্তরা এখানে পুজো দিতে আসেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ