সংবাদদাতা, বনগাঁ: আগের বছর ৩৬ টি প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিয়েছিলেন। রোজগার হয়েছিল এক একজনের হাজার ছয়েক টাকার মতো। এবার সেটুকুও হল না। হাড়ভাঙা খাটুনির পর এমন অবস্থা হওয়ার মর্মাহত তাঁরা। এবার বাড়ি ফেরার পথ ধরবেন। যাওয়ার আগে ঠাকুরের সামনে হাতজোড় করে বলে গেলেন, ‘মা, ক্ষমা করো, আমরা আর আসব না।’
নিজেদের এলাকায় তেমন কোনো কাজ জোটে না তাঁদের। এক ফসলি জমিতে ধানচাষ করে কোনোমতে পেট চলে। প্রতিবছরই পুজোর আগে বনগাঁর পটুয়াপাড়ায় আসেন। ঘাড়ে করে প্রতিমা নিয়ে গাড়িতে তুলে মণ্ডপে পৌঁছে দেন। একটি দলে ১৬ জনের মতো থাকেন। একটা বড়ো দুর্গা মণ্ডপে পৌঁছে দিলে মেলে ৬ হাজার টাকার মতো। বনগাঁ তালতলা পটুয়াপাড়ায় গতবছর এসেছিলেন শুকদেব করের নেতৃত্বে ১৫ শ্রমিক। হাজার ছয়েক পেয়েছিলেন। এবারও এসেছেন। কিন্তু আয় একেবারেই মন্দ। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে একপ্রকার বাধ্যই হলেন, এবারই শেষ। সামনের বার থেকে আর আসা হবে না। তাঁদের একজন বললেন, ‘অনেকে এখান থেকে দরদাম করে আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন। মণ্ডপে গিয়ে কাজ শেষে টাকা কম দিচ্ছেন। আমরা গরিব। এলাকায় তেমন কোনো কাজ নেই। পুজোর সময় ছেলেমেয়েদের জন্যই এতদূর আসি। কিন্তু এখানে এসেও যদি ঠকতে হয়, দুঃখ লাগে। আমরা জানি গরিবের কেউ বন্ধু হয় না। ভেবে মন খারাপ হয়। তবুও মায়ের কাছে প্রার্থনা, ‘মা সকলকে ভালো রেখো।’
বনগাঁর স্থানীয় একটি ক্লাবের মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার পর টাকাপয়সা নিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন শুকদেবরা। ওঁরা ১৫ জন এসেছেন সন্দেশখালি থেকে বনগাঁর পটুয়াপাড়ায়। ঠাকুর তোলার কাজে মারাত্মক পরিশ্রম। তা করে কিছু টাকা হয়। সে টাকায় নতুন জামা কেনেন পরিবারের জন্য। তবে এবছর পুজোর রোজগার কার্যত হলই না। সকলেরই মন খারাপ। দুর্গাকে শুধু বলে গেলেন, ‘মা, আমরা আর আসব না।’ -নিজস্ব চিত্র



