দায় কার? কাঠগড়ায় পুলিশ-উদ্যোক্তারাও
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে এই বিপর্যয়ের দায় কার? সপ্তমীর রাতে পদপিষ্টের ঘটনার পর এই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে উঠছে। উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি পুলিশকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা। অভিযোগ, এত বড়ো বিপর্যয়ের পর কলকাতা পুলিশের সামান্য সাহায্যটুকু মেলেনি। এমনকি, নিথর দেহগুলিকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ছিল না। অ্যাপ ক্যাব-বাইক ভাড়া করে জখমদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, চোরবাগানের মণ্ডপ পরিদর্শন পর্বে পুলিশ-দমকলের তরফে উদ্যোক্তাদের জানানো হয়েছিল, সাধারণ দর্শকদের জন্য প্রবেশদ্বারটি যথেষ্ট সংকীর্ণ। অবিলম্বে তা প্রশস্ত করা হোক। প্যান্ডেলে ভিড় বাড়াতে মরিয়া উদ্যোক্তারা সেই পরামর্শ কানেই তোলেননি বলে অভিযোগ। ফলে কোনো অবস্থাতেই তাঁরা এই বিপর্যয়ের দায় এড়াতে পারেন না। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক ভিআইপি পাস বিলি করেছিলেন উদ্যোক্তারা। ঠিক কত পাস ইস্যু হয়েছিল, তার হিসাব মেলেনি। প্যান্ডেলের বাইরে মোতায়েন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা পর্যন্ত এখন আতশকাচের নীচে। বিপর্যয়ের পর আঙুল উঠেছে পুলিশের দিকেও। অভিযোগ উঠছে যে, সুপারিশ অনুযায়ী ‌঩উদ্যোক্তারা প্রবেশপথে কী বদল এনেছেন, তা খতিয়ে দেখেননি লালবাজারের শীর্ষকর্তারা। নিয়মমতো এবারও পুজোর মাসখানেক আগে থেকে শহরের নামী ও বড়ো পুজো কমিটির থিম-প্যান্ডেল নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় থানার ওসিরা। তারপর প্যান্ডেলের কাঠামো পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিসি। পরবর্তীকালে দমকলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোটা কলকাতার সব মণ্ডপের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) সুদীপ সরকার। এই পর্যায়েই যাচাই করা হয়েছে মণ্ডপের কাঠামোর নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের সুরক্ষা, প্যান্ডেলে ঢোকা-বেরনোর পথ প্রশস্ত কি না, নিয়ম মেনে রাস্তা ছাড়া হয়েছে কি না, দমকল বিধি মানা হয়েছে কি না ইত্যাদি। শেষ ধাপে, মহালয়ার পর প্যান্ডেল পরিদর্শন করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্বয়ং। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তিনবার পরিদর্শনের পরও কী করে ঘটল এমন দুর্ঘটনা? লালবাজার সূত্রের খবর, এবার চোরবাগানের মণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসটিএফ) এবং ডিসি (ইডি)। শহরে এমন মেগা ইভেন্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা এই দুই আইপিএস অফিসারের নেই বলেও জানা যাচ্ছে।   
লালবাজারের অভিজ্ঞ অফিসাররা বলছেন, এবার পুজো নিয়ে একটা গা ছাড়া ব্যাপার ছিল কলকাতা পুলিশের শীর্ষস্তরে। দ্বিতীয়ার দিন মাঝরাতে যখন প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে, তখন বাহিনীকে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি নিয়ে অবহিত করেছেন পুলিশ কমিশনার। এমনটা নজিরবিহীন!