Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১ এপ্রিল থেকে ক্ষুদ্র চা বাগানে বর্ধিত মজুরি পাচ্ছেন না শ্রমিকরা

গত বছরের হাজিরা চুক্তি অনুযায়ী আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে ক্ষুদ্র চা বাগানে শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি লাগু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হল বাগান মালিকদের তরফে।

১ এপ্রিল থেকে ক্ষুদ্র চা বাগানে বর্ধিত মজুরি পাচ্ছেন না শ্রমিকরা
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত বছরের হাজিরা চুক্তি অনুযায়ী আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে ক্ষুদ্র চা বাগানে শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি লাগু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হল বাগান মালিকদের তরফে। 

Advertisement

জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির পক্ষ থেকে এদিন জানানো হয়েছে, নানা কারণে ক্ষুদ্র চা বাগান চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যার জেরে ১ এপ্রিল থেকে ১৩ টাকা মজুরি বাড়িয়ে শ্রমিকদের জন্য দৈনিক যে ২১৫ টাকা করার কথা ছিল, তা এখনই সম্ভব হচ্ছে না। জুন মাস থেকে তাঁরা শ্রমিকদের বর্ধিত হারে মজুরি দেবেন। সেক্ষেত্রে এপ্রিল ও মে মাসের এরিয়ার ১৫ আগস্টের মধ্যে মেটানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি চা শ্রমিক সংগঠনগুলিকেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। 
এদিকে, ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত মজুরি চালু না হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র চা বাগানের শ্রমিকরা। জলপাইগুড়ি জেলার সঙ্গে কোচবিহারের ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিকরাও রয়েছেন একই সংগঠনের ছাতার তলায়। সবমিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র চা বাগানে শ্রমিকের সংখ্যা ২২ হাজারের মতো। বাগান মালিকদের সিদ্ধান্তের জেরে তাঁদের পেটে টান পড়ার জোগাড়। বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। 
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, টি বোর্ড কোনও বিবেচনা না করেই গত মরশুমে ৩০ নভেম্বর কাঁচা পাতা তোলার শেষদিন হিসেবে ঘোষণা করে। এর জেরে আমরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তাছাড়া গত বছর পুজোর পর থেকে সেভাবে কাঁচা পাতার দাম পাই঩নি। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কমে পাতা বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া গত সাড়ে তিন মাস পর সবে চা পাতা তোলার মরশুম শুরু হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে এখনও পর্যন্ত উৎপাদন যথেষ্টই কম। আবহাওয়ার পরিবর্তনে গত বছরের তুলনায় এ বছর এখনও পর্যন্ত কাঁচা চা পাতার উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কম। বছরের শেষে এই ঘাটতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বুঝতে পারছি না। ভালো পাতার অভাবে অনেক বটলিফ চা তৈরি বন্ধ রেখেছে। আগে বছরে ন’মাস বাগান থেকে কাঁচা পাতা পাওয়া যেত। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে এখন বছরে পাঁচ মাসের বেশি পাতা পাওয়া যায় না। আক্রমণ বাড়ছে রোগপোকার। সবমিলিয়ে গত বছরের ২৮ জুন যে হাজিরা চুক্তি হয়েছিল, সেই অনুযায়ী আমরা আগামী ১ এপ্রিল থেকে শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি দিতে অপারগ। বিষয়টি চিঠি দিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলিকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুন থেকে আমরা ওই বর্ধিত দেব বলে জানানো হয়েছে। 
তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি হারাধন দাস বলেন, আমরা চিঠি পেয়েছি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা হবে। মালিক সংগঠনের সঙ্গেও বসা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ