সংবাদদাতা, কান্দি: বীরভূমের শ্রমিকরা এবার আসতে শুরু করেছেন। ফলে স্বস্তি নেমে এসেছে কান্দি মহকুমার কৃষি জমি মালিকদের। ধান রোপনের কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের আকাল থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাচ্ছেন জমি মালিকরা। এবার মহকুমা জুড়ে ধান পোঁতার কাজ ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কান্দি মহকুমা এলাকার পাঁচটি ব্লক মিলে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে। যার ফলে প্রতিবছর ধান পোঁতার কাজের শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়। এবছরও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। মাসখানেক ধরে আমন ধানের চারা রোপনের কাজ শুরু হলেও এখনও অর্ধেকের বেশি খালি পড়ে রয়েছে বলে জমি মালিকদের দাবি। শ্রমিকের আকালেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন চাষিরা। ভরতপুর ১ ব্লকের ইব্রাহিমপুরের জমি মালিক আবসার আলি বলেন, শ্রমিকের অভাবে চার বিঘে জমির মধ্যে মাত্র দেড় বিঘে জমিতে ধান বোনা হয়েছে। ৬০০ টাকা রোজ দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন অবস্থা অন্যান্য এলাকাতেও বলে চাষিদের দাবি।
তবে শ্রমিক সঙ্কট এবার মিটতে বসেছে। কারণ কয়েকদিন ধরে বীরভূমের শ্রমিকরা কান্দিতে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন সকাল হলেই ছোট গাড়ি করে শ’য়ে শ’য়ে শ্রমিক ছোট গাড়ি করে বড়ঞা ব্লকের কুলি চৌরাস্তায় হাজির হচ্ছেন। সেখান থেকে দরদাম করে বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা কাজে চলে যাচ্ছেন। কুলি চৌরাস্তার বাসিন্দা মিঠু শেখ বলেন, প্রতিদিন ২০টিরও বেশি শ্রমিক বোঝাই গাড়ি এখানে আসছে। এরপর তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছেন। বীরভূমের কোটাশুর এলাকার শ্রমিক হেমন্ত কিসকু বলেন, প্রতিবছর আমাদের দল কান্দিতে আসে। তবে এবছর একটু দেরি হয়ে গেল। কারণ আমাদের ওখানে চাষ শেষ করার পর এখানে আসতে শুরু করেছি। কান্দি ব্লকের হিজলের আমিত্যা গ্রামের জমি মালিক সিয়াদত শেখ বলেন, অন্যান্য বছর বীরভূম থেকে শ্রমিকরা আরোও আগে এসে যায়। কিন্তু এবছর দেরিতে আসায় চাষও দেরিতে হচ্ছে। তবে ওঁরা আসতে শুরু করায় স্বস্তি পেলাম।