নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ১৬১০কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের(পিইউপি) বৈঠকে যোগ দিতে এসে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উন্নয়নের কাজ নিয়ে জেলাশাসকদের প্রশংসা করলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিডিওদের একাংশের সমালোচনা করেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও একহাত নিয়ে দাবি করেন, বিজেপি সরকারের আমলে কয়লা, বালি, গোরু পাচার বন্ধ হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি ভাল ফল করে। সেকারণে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর এই এলাকার বাসিন্দাদের উপর রাগ হয়েছিল। তিনি গত অর্থবর্ষে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের জন্য মাত্র ২০কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তার মধ্যে মাত্র ছ’কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আমরা এবার পূর্ণ সময়ের জন্য বাজেট পেশ করতে পারিনি। তাও পর্ষদের জন্য ১৬১০কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। তার মধ্যে ১০কোটি টাকা বেতন সহ অন্য খাতে খরচ হবে। বাকি ১৬০০কোটি টাকায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় থাকা ৭৪টি ব্লকে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হবে।’
এদিন হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়ায় আসার কথা ছিল। কিন্তু, খারাপ আবহাওয়ার কারণে তিনি সড়কপথে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বাঁকুড়ায় পৌঁছান। বিকাল সাড়ে ৪টে থেকে প্রায় দেড়ঘণ্টা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক, প্রশাসনের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ঝাড়গ্রামে পিইউপি’র নতুন অফিস হবে। বোলপুরের অফিস চালু রেখে সিউড়িতে বীরভূম জেলা পরিষদ ভবনে পর্ষদের ক্যাম্প অফিস গড়ে তোলা হবে। পিইউপি আমার হাতেই রয়েছে। আগামী তিনমাসের মধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে। পুজোর পর প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় ৫০লক্ষ টাকার কাজ হবে। আইসিডিএস কেন্দ্র, স্কুলে শৌচাগার তৈরি, শ্রেণিকক্ষে সিলিং ফ্যান লাগানো সহ নানান উন্নয়নমূলক কাজ হবে। নয়াগ্রাম, বান্দোয়ানের মতো পিছিয়ে পড়া ব্লকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে জলজীবন মিশন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বহু জায়গায় পাইপ পাতা হলেও জল পৌঁছয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষ যাতে বাড়িতে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পান, তার জন্য পিইউপি’র টাকায় অর্ধসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত সহ রাজ্যের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যোগ্য উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২৫লক্ষ বাড়ি তৈরি হবে। পিএম সূর্যঘর-এ পাঁচলক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলাশাসকদের স্তরে ভালো কাজ চলছে। তবে কয়েকজন বিডিওর জড়তা এখনো কাটেনি। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। তবে তাঁদের তাড়াতাড়ি জড়তা কাটিয়ে উঠতে বলা হয়েছে। এসআইআরে বাদ পড়া হিন্দু শরণার্থীরা সিএএতে আবেদন করলে সরকারি সুবিধা পাবেন। আদালতের নির্দেশে যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও সুবিধা পাবেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বেআইনি কাজ করছে। জঙ্গলমহলে ধর্ম পরিবর্তন করাচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আসছে। তারপর ধর্ম পরিবর্তন ও বেআইনি জমি কেনাবেচা আটকাতেও আইন আসবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার মেয়ের বিয়ের প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কলকাতায় ফিরে যান।