সংবাদদাতা, সিউড়ি: তিন বছরেই পাল্টে গিয়েছে পুরো ছবিটা। নেই সেই জৌলুস। নেই কোন প্রস্তুতিও। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে যে কারখানাগুলি আলোর মালায় সেজে উঠত। আজ তা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বছর চারেক আগেও বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে সেজে উঠেছিল স্পঞ্জ আয়রন কারখানা। এরপর ২০২২ সালে বন্ধ হয়ে যায় ওই কারখানা। ফলে এই বছরও বিশ্বকর্মা পুজোর কোনও প্রস্তুতিই নেই সেখানে। এতেই মন খারাপ কারখানার কর্মীদের। আবারও আগের মতো চালু হোক এই কারখানা। এমনই দাবি করছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, আমরা রড কারখানা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি। আশা করি আবারও কারখানা চালু করতে সক্ষম হব।
মল্লিকপুর পঞ্চায়েতের মিনিস্টিল এলাকায় রয়েছে এই রড কারখানা। প্রতি বছর ধুমধাম করে বিশ্বকর্মা পুজো হতো। শ্রমিকদের তরফে জানা গিয়েছে, পুজোর প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকেই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত কারখানায়। কারখানা সাফাই করা হতো। পুজোর দু’দিন আগে থেকে কারখানার সব যন্ত্রপাতি রং করা হতো। পাশাপাশি আলোর মালায় সাজানো হতো কারখানা চত্ত্বর। পুজোর দিন শ্রমিকরা সপরিবারে সেখানে হাজির হতেন। শ্রমিকরা জানান, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে স্নান করে নতুন জামা-কাপড় পরে তাঁরা হাজির হতেন কারখানায়। সেখানেই প্রথমে পুজো হতো। এরপর পুজো উপলক্ষ্যে কারখানার কনট্রাক্টররা শ্রমিকদের বকশিসও দিতেন। পুজোর পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে শ্রমিকদের মধ্যে মিষ্টির প্যাকেট বিলি হতো। হিন্দু, মুসলিম সব সম্প্রদায়ের কর্মীরা মেতে উঠতেন এই পুজোর আনন্দে। কিন্তু গত তিনবছরে এই উৎসবের ছবি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।
শ্রমিকদের থেকে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বন্ধ হয়ে যায় এই রড কারখানা। অত্যাধিক বিদ্যুৎ বিল, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি সহ একাধিক খরচার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করা হয় কারখানাটি। এরপর একাধিক বৈঠক হয়েছে কারখানা খোলার জন্য। এমনকী, সম্প্রতি সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক ও কারখানার মালিকপক্ষের মধ্যেও সমাধান সূত্র খুঁজতে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। কারখানার শ্রমিক শেখ আমরুল, পরেশ মাহারারা বলেন, রড কারখানায় বিশ্বকর্মা পুজোয় খুব আনন্দ করতাম আমরা। পরিবারের সদস্যরাও আসতেন কারখানায়। কিন্তু চার বছর ধরে সব বন্ধ। আমরা চাই আবারও খুলুক এই কারখানা।-নিজস্ব চিত্র