Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় ভূগর্ভস্থ পাম্প হাউস সাফাই করতে নেমে শ্রমিকের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

হাওড়ায় ভূগর্ভস্থ পাম্প হাউস সাফাই করতে নেমে শ্রমিকের মৃত্যু, চাঞ্চল্য
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্যুয়ারেজ লিফটিং স্টেশনের ভূগর্ভস্থ পাম্প হাউস পরিষ্কার করতে নেমে মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শিবপুরে ফোরশোর রোডে। মৃত যুবকের নাম রিয়াজুদ্দিন মোল্লা (১৮)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবকের বাবা জাকির মোল্লা (৫৪) ও কাকা হাবিব মোল্লা (৪৪)। তাঁদের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বলে জানা গিয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিস ও দমকলের। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিবপুর থানার পুলিস। পাশাপাশি নর্দমা পরিষ্কারের সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফোরশোর রোডে কেএমডিএ’র আওতাধীন গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান প্রকল্পের স্যুয়ারেজ লিফটিং স্টেশন রয়েছে। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ঠিকা শ্রমিক রিয়াজুউদ্দিন লিফটিং স্টেশনের প্রায় ২০ ফুট নীচে পাম্প হাউসের জালি পরিষ্কার করতে নামেন। তাঁকে এই কাজে সাহায্য করছিলেন বাবা ও কাকা। আচমকা নিকাশি নালার ভিতর থেকে গোঙানির আওয়াজ শুনতে পান সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীরা। কেএমডিএ’র অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, ভূগর্ভস্থ নর্দমার ভিতরে তিনজন হাবুডুবু খাচ্ছেন। যুবককে বারবার জল থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন তাঁর বাবা ও কাকা। রাজা চট্টোপাধ্যায় নামের এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, ‘আমরা সেই মুহূর্তে বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে পুলিস ও দমকলকে খবর দিই। যুবককে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁর বাবা ও কাকা অসুস্থ হয়ে পড়েন।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই শিবপুর থানার পুলিস এসে তিনজনকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা রিয়াজউদ্দিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যুবকের বাবা ও কাকার চিকিৎসা চলছে।
কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানহোলের দূষিত জল পরিশোধন করে গঙ্গায় ফেলার উদ্দেশ্যে প্রায় দুই দশক আগে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান-২ প্রকল্প অনুযায়ী এই পাম্প হাউস তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু মূল পাইপলাইন সংযোগ করার ক্ষেত্রে অনুমতি না পাওয়ায় এত বছর ওই পাম্প হাউস পুরোপুরিভাবে চালু করা যায়নি। শুধুমাত্র বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল পাম্প করে নদীতে ফেলা হয়। মাঝেমধ্যেই ভূগর্ভস্থ জালিতে নোংরা আটকে গেলে নীচে নেমে পরিষ্কার করতে হয়। এদিন সেই কাজ করতে নেমে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ওই ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান দপ্তরের। কেন সুপারভাইজারের নজরদারি ছাড়া এদিন কাজ করা হচ্ছিল, কেন শ্রমিকদের সেফটি ল্যাম্প, অক্সিজেন মাস্কের মতো সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ