Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রামরাজাতলায় ফ্ল্যাটের নীচে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, মৃত্যু শ্রমিকের

মঙ্গলবার সাতসকালে হাওড়ার রামরাজাতলার রামচরণ শেঠ রোডের একটি ফ্ল্যাটের নীচে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। মৃতের নাম বিজয় দাস ওরফে নানকি (৪০)।

রামরাজাতলায় ফ্ল্যাটের নীচে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, মৃত্যু শ্রমিকের
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মঙ্গলবার সাতসকালে হাওড়ার রামরাজাতলার রামচরণ শেঠ রোডের একটি ফ্ল্যাটের নীচে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। মৃতের নাম বিজয় দাস ওরফে নানকি (৪০)। তাঁর বাড়ি বিহারে। কলাবাগান এলাকার একটি আলমারির ফ্যাক্টরিতে তিনি থাকতেন। এদিন সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে আলমারি নামাতে গিয়ে একতলায় ইলেকট্রিক মিটার বক্সের সামনে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন তিনি। সেখানে জল জমে ছিল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামচরণ শেঠ রোডের চারতলা ফ্ল্যাটের তিনতলায় ভাড়া থাকেন স্বপনকুমার রায়। এই ফ্ল্যাট ছেড়ে হুগলির খানাকুলে পরিবার নিয়ে চলে যাবেন বলে এদিন সকালে ঘরের জিনিসপত্র নামানোর কথা ছিল তাঁর। সেই কাজের জন্য বিজয় সহ চারজন শ্রমিককে ডাকা হয়েছিল। সকাল ৬টা নাগাদ স্বপনবাবুর ফ্ল্যাট থেকে একটি আলমারি নিয়ে নীচে নামেন বিজয়রা। মিটার বক্সের সামনে থাকা গ্রিলের গেটের একটি পাল্লায় হাত দিতেই তড়িদাহত হন বিজয়। এদিকে, ভোর থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে ফ্ল্যাটের নীচে জল জমেছিল। বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিজয়। তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি তিনজন ওই লোহার গেট স্পর্শ না করায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় চ্যাটার্জিহাট থানায়। পুলিস এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর ঘটনাস্থলে আসেন সিইএসসি’র আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি তাঁরা মিটার বক্স আপাতত সিল করে দিয়ে গিয়েছেন। সিইএসসি’র এক আধিকারিক বলেন, ‘কোনওভাবে মিটার বক্স থেকে তার ছিঁড়ে সম্ভবত গ্রিলে জড়িয়ে গিয়েছিল। তার উপর বৃষ্টির জমা জল। তাতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ঝুমা দাস বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই ফ্ল্যাটের নীচে জল জমে যায়। প্রতিটি ফ্ল্যাটের একতলাতেই তারের জঞ্জাল। বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছি।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খোলা তার যাতে রাস্তায় পড়ে না থাকে, সেজন্য প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। প্রসঙ্গত, গত বছর আগস্ট মাসে সালকিয়ায় বাড়ির কাছেই জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক কলেজ ছাত্রীর। চলতি বছর বর্ষার শুরুতেই কোনও রাস্তায় বিদ্যুৎবাহী খোলা তার যাতে পড়ে না থাকে, সে ব্যাপারে বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থাকে সতর্ক করেছে হাওড়া পুরসভা। এদিকে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী পরিবারগুলি। বিদ্যুৎ না থাকায় চলছে না পাম্প। ফলে জল নিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই তাঁদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ