সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: খনিগর্ভে দুর্ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যু। অণ্ডাল থানার ইসিএলের বাঁকোলা এরিয়ার শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারির খনিগর্ভে বুধবার ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম বিবেককুমার মাজি (২৫)। মৃত শ্রমিকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। এই ঘটনায় আরও চার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোলিয়ারি চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এদিন। খবর পেয়ে এসিপি (অণ্ডাল) পিন্টু সাহা সহ বিশাল পুলিস বাহিনী আসে। এছাড়াও ইসিএলের আধিকারিক ও বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল আসেন। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ থাকা অসুস্থ ওই চার শ্রমিককে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয়।
কোলিয়ারির শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, ইসিএলের বরাত পাওয়া বেসরকারি সংস্থার গাফিলতির কারণেই শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ইসিএল কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইসিএলের আধিকারিক পল্লব খাস্তগীর বলেন, খনিগর্ভে আটকে পড়া চার শ্রমিককে উদ্ধার করা গিয়েছে। একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে।
ইসিএল কর্মী সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসিএল কর্তৃপক্ষ ওই কোলিয়ারির কয়লা উত্তোলনের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দিয়েছে। সংস্থার কর্মীরা খনিগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন করে থাকেন। এদিন সকালে খনিগর্ভে ১৫ -১৯ নম্বর লেভেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলে ছয় শ্রমিক মেশিন দিয়ে কয়লা কাটার কাজ করছিলেন। সেখানে একটি পুরোন খনিগর্ভের সুরঙ্গ পাঁচিল দিয়ে বন্ধ ছিল। কোনও কারণে পাঁচিলটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তেই সুরঙ্গপথ দিয়ে জলের স্রোত বেরোতে থাকে। জলের তোড়ে খনি গর্ভে ভেসে যান ওই ছয় শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে বিবেক কুমারের মৃত্যু হয়। কোনও রকমে বাকি পাঁচ শ্রমিকের প্রাণরক্ষা হয়। ইসিএল কর্তৃপক্ষ খবর পেতেই তড়িঘড়ি উদ্ধারকারী দল খনিগর্ভে নেমে বিপন্ন শ্রমিকদের উদ্ধার করে। তাঁদের ইসিএলের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের সহকর্মী গৌতম বাউরি বলেন, আমরা যেখানে কাজ করছিলাম সেখানে প্রথম থেকেই জল বেরিয়ে আসছিল। পরে আচমকাই পাঁচিল ভেঙে হু-হু করে জল বেরোতে থাকে। জলের স্রোতেই ভেসে মৃত্যু হয়েছে বিবেকের। খনি শ্রমিক সংগঠনের নেতা সৌমিক মজুমদার ও মনোজ মুখোপাধ্যায়রা বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীতার কারণে এই দুর্ঘটনা। আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।-নিজস্ব চিত্র