Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই কাজ হয়েছে মাল পুরসভায়, মানলেন স্বপন

রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই মাল পুরসভায় কাজ হয়েছে তাঁর আমলে। অবশেষে মেনে নিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা।

রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই কাজ হয়েছে মাল পুরসভায়, মানলেন স্বপন
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই মাল পুরসভায় কাজ হয়েছে তাঁর আমলে। অবশেষে মেনে নিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা। এক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদনের অপেক্ষায় বসে থাকতে গেলে বছরে একটা কিংবা দু’টোর বেশি কাজ করা যেত না। ফলে যা করেছি, মালবাজারের উন্নয়নের স্বার্থেই করেছি। একইসঙ্গে স্বপনের দাবি, যখন পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম, রাজ্যের তরফে আমাকে জানানো হয়েছিল, টাকার অভাব হবে না। 

Advertisement

স্বপনের এ হেন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়া কীভাবে কাজ করলেন স্বপন? সেক্ষেত্রে কার মদত ছিল? এক্ষেত্রে বিজেপির পাশাপাশি ফের সরব হয়েছেন তৃণমূলের একাংশের কাউন্সিলার। 
২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পুলিন গোলদারের বক্তব্য, ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল ছাড়া কাজ হয়েছে বলে যদি স্বপনবাবু স্বীকার করে নেন, তাহলে আমরা এতদিন ধরে যা বলে আসছি, তাতেই শেষপর্যন্ত সিলমোহর পড়ল। তাহলে আমাকে বিজেপির বি-টিম বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন? পুলিনের প্রশ্ন, রাজ্য থেকে স্বপন সাহার কাছে কী বার্তা ছিল জানা নেই। তবে ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল ছাড়া টেন্ডার না করে ওয়ার্কঅর্ডার দিয়ে কোনো পুরসভার চেয়ারম্যান কাজ করতে পারেন কি? 
স্বপনের আমলে আবাস যোজনার ঘর, পথবাতি সহ বহু প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের একাংশের কাউন্সিলার সরব। যদিও স্বপনের দাবি, যাঁরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন, তাঁরাই আসলে দুর্নীতিতে যুক্ত। তাছাড়া আমি আদালতে ক্লিনচিট পেয়েছি।  
মাল পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই হওয়া কাজের কিছু ক্ষেত্রে পুরো পেমেন্ট হয়নি। এনিয়ে কোনো কোনো ঠিকাদার মামলা করেছেন। কেউ আবার বারবার পুরসভায় তাগাদা দিচ্ছেন। সম্প্রতি পুরসভায় বৈঠকের পর মালবাজারের বিজেপি বিধায়ক সুকরা মুণ্ডা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল ছাড়া যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে নতুন করে যেন ঠিকাদারদের কোনো টাকা দেওয়া না হয়। মাল পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি বলেন, যেসব কাজের কাগজপত্র ঠিক নেই, সেগুলির বিল পেমেন্ট করা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের নির্দেশে এখন সব পেমেন্টই বন্ধ। স্বপনের অবশ্য দাবি, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়া প্রয়োজনের ভিত্তিতে যেসব কাজ করা হয়েছিল, সেগুলির ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্রুভালের জন্য পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়। রবিবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে স্বপন বলেন, কাজের বিল নিয়ে সমস্যা হবে কেন? আমি তো বিল দিয়েছি।  
এদিকে, একাধিক অনিয়মের অভিযোগে স্বপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হলেও বিধানসভা ভোটের মুখে কেন তাঁর উপর থেকে ‘শাস্তি’ প্রত্যাহার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলেরই অনেকে। স্বপনের অবশ্য মন্তব্য, এটা দলের বিষয়। আমি তো দলে ফেরার জন্য বলতে যাইনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ