


রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: জনগণের বিপুল প্রত্যাশা ছিল। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতিও ছিল প্রচুর। গতবার শালতোড়া বিধানসভায় চন্দনা বাউরিকে ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু, কয়েকদিন আগে দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধেই। তঁদের দাবি, চন্দনা বাউরিকে টিকিট দেওয়া চলবে না। হয় মিছিলও। তা সত্ত্বেও বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছে। ভোট ঘোষণা হলেও শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির এলাকা উন্নয়নের সব কাজ শেষ হয়নি। এখনো আলো, রাস্তার মতো সাধারণ মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় শালতোড়াবাসী ক্ষুব্ধ। বিধায়ক কাজ করতে পারেননি বলে তৃণমূল কটাক্ষ করেছে। যদিও প্রশাসন ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে চন্দনাদেবী অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।
চন্দনাদেবী বলেন, আগে আমরা বছরে এলাকা উন্নয়নের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পেতাম। পরে তা বেড়ে ৭০ লক্ষ হয়। ওই পরিমাণ টাকা এত বড় বিধানসভা এলাকায় কাজ করার জন্য অনেক কম। আমি ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করে ফেলেছি। আমার এলাকা উন্নয়নের তহবিল থেকে কোনো টাকা ফেরত যাচ্ছে না। প্রশাসনের আধিকারিকরা পদে পদে আমাকে অসহযোগিতা করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে তৃণমূলের নেতারা হুমকি দিয়েছেন। বিধায়ক তহবিলের টাকায় প্রকল্পের কাজ করলে অন্য কাজের বরাত দেওয়া হবে না বলে ঠিকাদারদের তৃণমূল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই কারণে মেজিয়া ব্লকের অর্ধগ্রাম অঞ্চলের একটি শ্মশান সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন বিডিও-র হস্তক্ষেপে কাজ শেষ হয়। অন্যান্য আধিকারিকদের অসহযোগিতার কারণে পাবরা ও বড়শাল এলাকার দু’টি হাইমাস্ট আলো ও বনআশুরিয়া এলাকায় একটি রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। শুধু শালতোড়া নয়, সারা রাজ্যেই বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হয়েছে। অথচ তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদদের ক্ষেত্রে প্রশাসন অর্থ খরচে সাহায্য করেছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, উন্নয়ন করতে না পেরে বিধায়ক অজুহাত খাড়া করছেন। তৃণমূল বা প্রশাসনকে মিথ্যা দোষারোপ করে কোনো লাভ হবে না। সাংসদ হিসাবে গত দু’বছরে এলাকা উন্নয়নের জন্য পাওয়া ১০ কোটি টাকা আমি খরচ করেছি। কোনো সমস্যা থাকলে আমি কীভাবে কাজ করালাম। উন্নয়নে ব্যর্থ বিজেপি বিধায়কের উপর শালতোড়াবাসী ক্ষুব্ধ। এবারের ভোটে বিধানসভার বাসিন্দারা তার জবাব দেবেন।
চন্দনাদেবীর বিরুদ্ধে বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশ ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন। তাঁকে টিকিট দেওয়ার বিরোধিতা করে শালতোড়ায় মিছিল ও বিক্ষোভ হয়। বিজেপি নেতাকর্মীরা চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে ভোট করাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। তৃণমূলও বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। ফলে শালতোড়ায় এবার ঘরে বাইরে চন্দনা বাউরি চাপে পড়েছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। প্রচারের সময় সেই চাপ তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেন কি না সেটাই এখন দেখার। বিজেপি প্রার্থী বলেন, আমি শুক্রবার থেকে শালতোড়ায় পুরো দমে প্রচার শুরু করব। দলের কর্মীদের নিয়েই
প্রচার চালাব। বিরোধীরা হালে পানি পাবে না।