সংবাদদাতা, বজবজ: কংক্রিটের অত্যাধুনিক রাজীব জেটিঘাট তৈরির কাজ এখন দ্রুতগতিতে চলছে। আপাতত ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ। খুব শীঘ্রই বাকি ১৫ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুজালি পুর প্রশাসন। রাজ্য পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের মধ্যেই এই জেটিঘাট চালু হয়ে যাবে। এর ফলে জলপথে পুজালি থেকে নদীর অপর পাড়ে উলুবেড়িয়ার সঙ্গে রোজের যাতায়াত আরও নিরাপদ হবে। পুজালি পুরসভার প্রশাসক ও চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস বলেন, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই জেটিঘাট হচ্ছে।
হুগলি নদীর তীরবর্তী পুজালি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একেবারে শেষ প্রান্তে রাজীব ঘাট। দীর্ঘদিন ধরে রাজীব ঘাট দিয়ে ভুটভুটি করে নদীর অপর পাড় উলুবেড়িয়াতে যাতায়াত করে শয়ে শয়ে মানুষ। এখানে কোনও পাকাপোক্ত জেটিঘাট ছিল না। জল কাদা ঠেঙিয়ে ভুটভুটিতে উঠতে হতো। ভিড়ে ঠাসা ভুটভুটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে যাওয়া-আসার জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। গঙ্গায় ভুটভুটি উল্টেও গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ হয়ে আসার পর থেকে তাঁর কাছে স্হায়ী জেটিঘাটের জন্য অনুরোধ করেন বিধায়ক অশোক দেব থেকে চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার চিন্ময় বারুই। এরপর সাংসদই উদ্যোগী হয়ে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এই রাজীবঘাটে স্থায়ী জেটি তৈরির সুপারিশ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার আরও দুটি জেটিঘাটের সঙ্গে রাজীবঘাটের জেটিরও টেন্ডার হয়। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এর শিলান্যাস হয়। কিন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে এর নকশা যাচাইয়ের জন্য সময় লেগে যায়। ফলে কাজ শুরু হতে ২০২৪ এর নভেম্বর লেগে যায়। সব মিলিয়ে আড়াই কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে এই জেটিঘাট তৈরিতে। প্রসঙ্গত, এর উল্টোদিকে উলুবেড়িয়ার জেটিঘাটের কাজ কয়েকমাস আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র