নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রেল ও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ টানাপোড়েনের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা উত্তর হাওড়ার বামনগাছি ও চাঁদমারি (বাঙালবাবু) ব্রিজের কাজ অবশেষে শেষ হওয়ার পথে। রাজ্যে পালাবদলের পর মিলেছে প্রশাসনিক সবুজ সংকেত। ধাপে ধাপে দুই সেতুর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল ও প্রশাসন। সেই কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসাবে রবিবার থেকে বামনগাছি ব্রিজে ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ শুরু করা হল। আগামী দু’মাস এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
উত্তর হাওড়ার সালকিয়া ও বেলগাছিয়ার মধ্যে সংযোগকারী ব্রিটিশ আমলে তৈরি বামনগাছি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেকারণে নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় পূর্ব রেল। সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনুমতি না মেলায় বারবার সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। অভিযোগ, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের আমলে একাধিকবার আবেদন করা হলেও ট্রাফিক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। ফলে রেল ও রাজ্যের সমন্বয়ের অভাবে বামনগাছি এবং চাঁদমারি— দুই সেতুর কাজই দীর্ঘদিন অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রেলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাফিকের উপর প্রভাব কমিয়ে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেই অনুযায়ী রবিবার থেকে বামনগাছি ব্রিজে ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে টোটো, রিকশ, মোটরবাইক সহ অন্যান্য হালকা যানবাহন আপাতত চলাচল করতে পারবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী দু’মাস ধরে বামনগাছি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ চলবে। এরপর প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্লক নিয়ে বাকি সংযোগকারী অংশের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। নতুন বামনগাছি ব্রিজ পুরোদমে চালু হওয়ার পর একইভাবে প্রায় দু’মাস সময় নিয়ে চাঁদমারি ব্রিজের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে রেল। একসঙ্গে দুই সেতুতে কাজ হলে উত্তর হাওড়ার যান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলেই এই পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক ও রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘বিগত সরকারের অসহযোগিতার কারণেই দুই সেতুর কাজ আটকে ছিল। এখন দ্রুত সেই কাজ সম্পূর্ণ করে উত্তর হাওড়ার মানুষকে আধুনিক ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।’ নিজস্ব চিত্র