Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অমরপুরে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার কাজ থমকে, ডাক্তার না থাকলে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট, ক্ষোভ

আউশগ্রামের অমরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ার কাজ এক বছর ধরে থমকে রয়েছে।

অমরপুরে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার কাজ থমকে, ডাক্তার না থাকলে রোগী দেখেন ফার্মাসিস্ট, ক্ষোভ
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামের অমরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ার কাজ এক বছর ধরে থমকে রয়েছে। দোতলা ভবন তৈরি হলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি ঘরেই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজ করতে হচ্ছে। এমনকী, চিকিৎসক না থাকলে গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা ফার্মাসিস্ট। রোগ নির্ণয় থেকে ওষুধ দেওয়া সবটাই করেন তিনি। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, জঙ্গলমহলে চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করতে প্রশাসন নজর দিক। বাধ্য হয়েই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের হাতুড়েদের উপর ভরসা করতে হচ্ছে।

Advertisement

আউশগ্রাম-২ ব্লকে জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেই তুলনায় ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসক বাড়েনি। রোগী এলেই রেফার করে দেওয়াই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকাঠামোও ধুঁকছে। হাল কবে ফিরবে সেই আশাতেই রয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দারা জানান, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের এখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র‌ই ভরসা। আদিবাসী এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
আউশগ্রাম-২ ব্লকের জামতাড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধীনে ছ’টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। অমরপুর, রামনগর, ভাতকুণ্ডা, বাহাদুরপুর, সর ও ভেদিয়া। প্রত্যেকটিতেই একজন করে চিকিৎসক ও একজন করে নার্স ও ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অমরপুরে চিকিৎসককে সবদিন পাওয়া যায় না। চিকিৎসক না থাকলে ফার্মাসিস্ট চিকিৎসা করেন। তিনিই রোগ নির্ণয়, ওষুধপত্র দেওয়া সব কাজ করেন। ফার্মাসিস্ট আশিসকুমার কুণ্ডু বলেন, ৩০বছরের অভিজ্ঞতাতেই রোগ নির্ণয় করি। চিকিৎসক না এলে আমাকে একা হাতে সামলাতে হয়।
অমরপুরে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার কাজ এক বছর ধরে থমকে রয়েছে। সেখানেও চিকিৎসা পরিষেবা থেকে টেলিমেডিসিন সবকিছু থাকার কথা। আউশগ্রাম-২ ব্লকে ৩১টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ার কাজ অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ থমকে রয়েছে। ঠিকাদার টাকা না পাওয়াতেই নাকি এমনটা ঘটেছে। সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নার্স শ্রাবণী নাথ বলেন, ভবন নির্মাণের কাজ বহুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মিহির চক্রবর্তী বলেন, টাকা আসা বন্ধ হওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। পাণ্ডুকে জায়গার সমস্যা ছিল। তবে আমার অধীনে থাকা অমরপুর, ময়ূরবাঁধ, পাণ্ডুকে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ার কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে। 
রোগী সুশীলা রুইদাস, অরুণ দেব বলেন, এখানে চিকিৎসক সপ্তাহে মাত্র তিনদিন আসেন। বাকি দিনগুলিতে ফার্মাসিস্টই ওষুধ দেন। এখানে সবকিছু পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও বাইরে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে যেতে পরামর্শ দেন। চিকিৎসার জন্য আমাদের ইলামবাজার, দুর্গাপুর, বোলপুর এসব জায়গায় ছুটতে হয়। পাশেই ১১ মাইল রোড গিয়েছে। খুব দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হোক। জামতাড়াতে ছ’জন চিকিৎসক ও ছ’জন নার্স রয়েছেন। তা সত্ত্বেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আউশগ্রাম-২ বিএমওএইচ সজীব বিশ্বাস বলেন, সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার কাজ থমকে রয়েছে। তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জামতাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিসিয়াল কাজ থাকলে চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়। তবে ফার্মাসিস্ট রোগী দেখার বিষয় আমার জানা নেই। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ